বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফুটবলপ্রেমীরা সাক্ষী হলো এক অবিশ্বাস্য নাটকের। গত কয়েকদিন ধরে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচে বিতর্ক, নাটকীয়তা আর শ্বাসরুদ্ধকর এক ফুটবলযুদ্ধ দেখলো বিশ্ব। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি এবং এনজো ফার্নান্দেজের গোলে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। তবে এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিল ভিএআর-এর মাধ্যমে মিশরের একটি গোল বাতিল হওয়া, যা ফুটবল মহলে সমালোচনার ঝড় তুলেছে।
আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্রীড়া অনলাইন টিওয়াইসি স্পোর্টস এই ঘটনাকে শিরোনাম করেছে, 'ভিএআর বাঁচালো আর্জেন্টিনাকে: জাতীয় দলের বিপক্ষে বিতর্কিতভাবে মিশরের গোলটি বাতিল করা হয়েছে।' প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গিয়েছিল মিশর। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ১৩ মিনিটে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে মোস্তাফা জিকো আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে চিপ শটে পরাস্ত করে জালে বল জড়িয়ে দেন। মিশর তখন ২-০ গোলে এগিয়ে যায় এবং মনে হচ্ছিল আর্জেন্টিনা আরও বড় বিপদে পড়েছে।
তবে উদযাপনের মাঝেই ভিএআর থেকে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে ঘটনাটি পুনরায় দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণ শুরুর ঠিক আগে মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ে হালকা স্টাড লাগিয়েছিলেন। মনিটরে রিপ্লে দেখে রেফারি সেটিকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা করেন এবং গোলটি বাতিল করে দেন। এই সিদ্ধান্তে মিশরের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সিদ্ধান্তটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।
এই গোল বাতিলের পরেও মোস্তাফা জিকো হাল ছাড়েননি। কিছুক্ষণ পরেই দুর্দান্ত এক দলীয় আক্রমণ থেকে তিনি আবারও সুযোগ পান এবং ডান পায়ের নিখুঁত শটে দিবু মার্তিনেজকে পরাস্ত করে মিশরের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন, যা আর বাতিল করা সম্ভব হয়নি। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে যখন আর্জেন্টিনার সামনে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি, তখনই দেখা যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আসল লড়াইয়ের মানসিকতা।
প্রথমে কর্নার থেকে দুর্দান্ত এক হেডে ব্যবধান কমান সেন্টারব্যাক ক্রিশ্চিয়ান 'কুতি' রোমেরো। এরপর জাদুকর লিওনেল মেসি সমতা ফিরিয়ে এনে ম্যাচে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেন। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোলটি করে আর্জেন্টিনাকে এনে দেন অবিশ্বাস্য ৩-২ ব্যবধানের জয়। এই জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা শুধু কোয়ার্টার ফাইনালই নিশ্চিত করেনি, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হবে।