বাংলাদেশের বিদ্যুৎবিহীন প্রত্যন্ত জনপদগুলিতে এক নীরব বিপ্লবের সূচনা করেছে নতুন 'কমিউনিটি গ্রিন এনার্জি হাব' প্রকল্প। আজ রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, সকালে প্রকাশিত প্রাথমিক উপাত্তে এই প্রকল্পের অভূতপূর্ব সাফল্যের চিত্র ফুটে উঠেছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। গত ১-২ ঘণ্টার মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এই সংবাদে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সারাদেশের বিশেষজ্ঞরা। এটি কেবল বিদ্যুৎ সরবরাহ নয়, বরং হাজার হাজার পরিবারের জীবনযাত্রাকে আমূল বদলে দেওয়ার এক প্রত্যয়ী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই 'গ্রিন এনার্জি হাব'গুলো মূলত সৌরশক্তি ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বায়োমাসকে কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের একটি সমন্বিত মডেল। প্রতিটি হাব একটি নির্দিষ্ট কমিউনিটিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, যার ফলে কেন্দ্রীয় গ্রিডের উপর নির্ভরতা কমে এবং লোডশেডিংয়ের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আজ দুপুরে জানান, "আমরা দেখেছি প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুতের অভাবে পড়াশোনা, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং দৈনন্দিন জীবনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল। এই হাবগুলো স্থানীয় মানুষকে ক্ষমতায়িত করছে, কারণ তারাই এর ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত হচ্ছেন।"
প্রকল্পের অধীনে স্থাপিত হাবগুলো থেকে বিদ্যুৎ পেয়ে অসংখ্য কৃষক সেচ পাম্প চালাতে পারছেন, শিক্ষার্থীরা রাতে আলো জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে পারছে, এবং ছোট ছোট দোকানপাট ও কুটিরশিল্প গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকছে। গতকাল রাতেও কুষ্টিয়ার প্রত্যন্ত একটি গ্রামে নবনির্মিত এমন একটি হাবের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ সংযোগ পেল প্রায় ৩০০ পরিবার। গ্রামবাসী লতা বেগম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের ছেলেমেয়েরা এখন দিনের আলো শেষ হওয়ার পরও পড়াশোনা করতে পারছে। মোবাইল চার্জ দেওয়ার জন্য আর শহরে ছুটতে হচ্ছে না। এটা আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো!"
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মডেলটি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি গবেষণা কেন্দ্রের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ আজ সকালে এক বিবৃতিতে বলেন, "এই বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমাধান দেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য গেমচেঞ্জার প্রমাণিত হতে পারে। এটি কেবল বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াবে না, বরং পরিবেশ দূষণ কমাতেও সাহায্য করবে এবং স্থানীয় অর্থনীতির চাকাকে সচল করবে। আমরা এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিরীক্ষণে আগ্রহী।" এই প্রকল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি প্রত্যন্ত গ্রামে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।