গতকাল সন্ধ্যায় রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার গহীন অরণ্যে এক অভাবনীয় প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার দেশের ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ত্ববিদদের মধ্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মাত্র ঘণ্টাখানেক আগে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই বিশেষজ্ঞরা একে বাংলাদেশের জন্য এক যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে মাটির নিচে চাপা পড়া এক বিশাল প্রাচীন স্থাপনার কিছু অংশ দেখতে পান, যা পরে বন বিভাগকে অবহিত করা হয়।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ এবং আজ গভীর রাতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একটি ছোট দলের তাৎক্ষণিক পরিদর্শনে যা বেরিয়ে এসেছে, তা রীতিমতো স্তম্ভিত করার মতো। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এটি প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো একটি সুবিশাল বৌদ্ধ বিহার বা নগরীর ভগ্নাবশেষ। মাটির গভীরে অসংখ্য ইটের কাঠামো, পোড়ামাটির ফলক এবং কিছু অস্পষ্ট ভাস্কর্যের অবয়ব দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য ড. ফয়সাল আহমেদ, যিনি আজ রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান, উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, "আমরা যা দেখছি, তা যদি সত্যি হয়, তবে এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাসের পাতাও নতুন করে লিখতে বাধ্য করবে। এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন একটি সুসংগঠিত সভ্যতার অস্তিত্ব, যা আগে অজ্ঞাত ছিল, তা অবিশ্বাস্য!"
এই আবিষ্কার দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক মানচিত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। রাঙামাটির মতো পাহাড়ি অঞ্চলে, যেখানে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজ খুব কম হয়েছে, সেখানে এমন বিশাল আকারের স্থাপনা আবিষ্কৃত হওয়া ঐতিহাসিকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই অঞ্চলে একসময় একটি সমৃদ্ধ ও বৃহৎ জনপদ গড়ে উঠেছিল, যার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ডের প্রাচীন সংস্কৃতির যোগাযোগ থাকতে পারে। এই আবিষ্কারের ফলে বাংলাদেশের ইতিহাস, ধর্ম এবং সংস্কৃতির অজানা অধ্যায়গুলো উন্মোচিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই আবিষ্কারের তাৎক্ষণিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। দেশের সর্বোচ্চ প্রত্নতাত্ত্বিক সংস্থাগুলো রাতারাতি জরুরি বৈঠক ডেকেছে। আজ গভীর রাতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, এই এলাকাকে অবিলম্বে সুরক্ষিত ঘোষণা করে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ খনন কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রত্নতত্ত্ববিদদেরও এ বিষয়ে অবগত করা হচ্ছে। এই আবিষ্কার বাংলাদেশের পর্যটন এবং গবেষণাক্ষেত্রেও বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করবে, যা বিশ্বব্যাপী নতুন আগ্রহের জন্ম দেবে।