শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) রাত ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে একটি অজ্ঞাত রাসায়নিক কারখানা থেকে বিষাক্ত বর্জ্য নিঃসরণ শুরু হওয়ায় জনপদে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে গেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একাধিক ইউনিট এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি টিম। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হঠাৎ করেই বাতাস ভারী হয়ে ওঠে এবং তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, রাত ৯টা থেকে ৯টা৩০ মিনিটের মধ্যে কারখানার সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন ড্রেন দিয়ে তীব্র গন্ধযুক্ত এক ধরনের তরল পদার্থ নির্গত হতে দেখা যায়, যা দ্রুত সংলগ্ন ডোবা ও খাল দিয়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এর পরপরই এলাকার শিশুদের মধ্যে কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং ত্বকে জ্বালাপোড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের অনেকে মাথা ঘোরানো ও বমি বমি ভাবের অভিযোগ করেছেন। ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব মইনুল হাসান রাত ১০:৩০ মিনিটে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন যে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয়দের সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যিনি পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক, এই মুহূর্তে ঘটনাস্থল থেকে জানিয়েছেন, বর্জ্যের রাসায়নিক প্রকৃতি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে এটি অত্যন্ত বিষাক্ত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "আমরা বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করেছি এবং দ্রুত পরীক্ষা করে এর উৎস ও উপাদান চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। একইসাথে, ছড়িয়ে পড়া বর্জ্যের বিস্তার রোধে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে।" ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়া স্থানে বালু ও অন্যান্য প্রতিরোধক ব্যবহার করে নিষ্কাশন পথ বন্ধ করার চেষ্টা করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত রাসায়নিক নিঃসরণ পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করে। শিল্প কারখানায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ না করার ফলশ্রুতিতে প্রায়শই এমন বিপর্যয় ঘটে। এই ঘটনার পর ফতুল্লার জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের প্রতি।