ভোর ৪টা বাজার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ আজ, ১২ জুলাই, ২০২৬-এর ভোর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে সুন্দরবনের এক গহীন অরণ্যে এক অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক ঘটনার সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। বন বিভাগের টহল দল এবং স্থানীয় কয়েকজন জেলে আকস্মিকভাবে দেখতে পান, ম্যানগ্রোভ বনের সুবিস্তৃত জলাশয় ও গাছের শিকড়ের আনাচে-কানাচে থেকে এক অদ্ভূত নীল-সবুজ আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। এই রহস্যময় জৈব-আলোক উদ্গীরণ (bioluminescent emission) মুহূর্তে স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে। প্রাথমিকভাবে এর কারণ কেউ অনুধাবন করতে না পারলেও, দ্রুত তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন তীব্র ও বিস্তৃত জৈব-আলোক উদ্গীরণ সুন্দরবনের ইতিহাসে বিরল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাহমিদা হক আজ ভোররাতে ডয়চে ভেলেকে (DW) জানান, “এটি সম্ভবত কোনো অজানা ডাইনোফ্ল্যাজেলেট (এক ধরণের এককোষী শেওলা) বা অন্য কোনো সামুদ্রিক অণুজীবের ব্যাপক প্রস্ফুটন, অথবা কোনো নতুন প্রজাতির আলোক-উদ্গীরণকারী ছত্রাকও হতে পারে। তবে এর দ্রুত বিস্তারের ধরন রীতিমতো উদ্বেগজনক।” তিনি আরও বলেন, “আমরা তাৎক্ষণিকভাবে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ ও ক্ষেত্র পরিদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এর পেছনে কোনো পরিবেশগত পরিবর্তন, যেমন পানির তাপমাত্রা বা লবণাক্ততার অস্বাভাবিক ওঠানামা দায়ী কিনা, তা খতিয়ে দেখতে হবে।”
পরিবেশবিদদের মতে, এই অস্বাভাবিক আলোর ছটা সুন্দরবনের সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রের জন্য সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। যদি এটি বিষাক্ত কোনো অণুজীবের প্রস্ফুটন হয়, তবে তা জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবনচক্রকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। ইতিমধ্যে বন বিভাগ সুন্দরবনের ঐ নির্দিষ্ট অঞ্চল ঘিরে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারির পরিকল্পনা করছে এবং আজ সকালে সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই খুলনা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য যাত্রা শুরু করেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংস্থাগুলোর সাথেও যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা এই রহস্যময় ঘটনা নিয়ে গভীর কৌতূহলী। এটি কেবল একটি বিরল প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন বা স্থানীয় পরিবেশের কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিতও হতে পারে। আগত দিনগুলোতে এই 'আলোর বিস্ফোরণ'-এর উৎস এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব উন্মোচনে নিবিড় গবেষণা পরিচালিত হবে। প্রশ্ন উঠেছে, এই নতুন রহস্য সুন্দরবনের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনবে নাকি এক নতুন বিপদের বার্তা?