শুক্রবার গভীর রাতে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক-দুই ঘণ্টার মধ্যে ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে অন্তত শতাধিক পরিবারকে জরুরি ভিত্তিতে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় এই মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্তদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে জোরেশোরে।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল ওয়াহাব সংবাদমাধ্যমকে জানান, “পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আজ রাত ১০টার পর থেকে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রায় শতাধিক পরিবারকে ইতোমধ্যে আমরা সরিয়ে নিয়েছি এবং বাকিদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে কাজ করছি। তাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একজন বাসিন্দা, রহমত মিয়া, কাঁদতে কাঁদতে জানান, “সবকিছু চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে। কোনো কিছু বোঝার আগেই আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ছে। রাতের অন্ধকারে কোথায় যাবো, কী করবো, কিছুই বুঝতে পারছি না।” স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ও বড়কান্দি ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রাম নতুন করে ভাঙনের শিকার হয়েছে, যা গত কয়েকদিনে ছোট আকারে থাকলেও আজ রাতে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এতে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের পরিকল্পনা দ্রুত হাতে নেওয়া হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এবং রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার কার্যক্রমে প্রশাসনকে সহায়তা করছেন। গভীর রাতের এই আকস্মিক ভাঙন স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।