সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল ভোররাতে (৭ই জুলাই, ২০২৬, মঙ্গলবার) দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা হাসপাতালজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভোর রাত ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে শুরু হয়ে প্রায় দেড়টা পর্যন্ত চলা এই সহিংসতায় দুইজন ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ মোট ছয়জন আহত হয়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে কর্মবিরতি ও একাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করেছেন, যার ফলে চিকিৎসা সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ভোররাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। প্রাথমিকভাবে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হলেও দ্রুত পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয় এবং হাসপাতালের ভেতরে ও জরুরি বিভাগের সামনে দফায় দফায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা গুরুতর নয় বলে জানা গেছে। তবে কারা এই হামলার সাথে জড়িত এবং কেন এই সংঘাতের সূত্রপাত, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
এই ঘটনার পর থেকেই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে জরুরি ও সাধারণ রোগীদের সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক রোগী এবং তাদের স্বজনরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তারা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে চিকিৎসা সেবা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন। হাসপাতালের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের সংবাদদাতাকে জানান, 'আমরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি। রোগীদের ভোগান্তি আমাদের কাম্য নয়, তবে আমাদের চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।'
সারাদেশে প্রায়শই চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটছে, যা চিকিৎসা পেশাজীবীদের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। সিলেট ওসমানী মেডিকেলের এই ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল এবং সচেতন নাগরিক সমাজ।