প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হচ্ছে আগামীকাল! হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মেধা যাচাইয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল আগামীকাল, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ফল প্রকাশের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই, ২০২৬) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক (সংস্থাপন) এ এস এম সিরাজুদ্দোহা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, 'ফলাফল প্রকাশের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামীকাল প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি আনন্দের খবর।'
অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল ঘোষণা করবেন। এর আগে, গত ১ জুলাই, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ৯ জুলাই (আগামীকাল) ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়েছিলো। এ বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা গত ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হয়ে ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা দিয়ে শেষ হয়। এ বছর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলো, যার মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ছিলো সাড়ে পাঁচ লাখ এবং বেসরকারি বিদ্যালয় (কিন্ডারগার্টেন) থেকে ৯০ হাজার শিক্ষার্থী।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা দুটি প্রধান উপায়ে তাদের ফলাফল জানতে পারবে। অভিভাবকরা অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল 'আইপিইএমআইএস' পোর্টালের মাধ্যমে এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন। এসএমএসের বিস্তারিত নিয়মাবলী ফল ঘোষণার পরপরই অধিদপ্তর কর্তৃক জানানো হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৬৬ হাজার বৃত্তি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ১৬ হাজার ৫০০ বৃত্তি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বৃত্তির এই সংখ্যা মেধাক্রম এবং জেলা-উপজেলাভিত্তিক বণ্টনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর অনুপাত অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রতি ৮ জনে একজন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রতি সাড়ে ৫ জনে একজন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করবে। শিক্ষার্থীদের দুই ধরনের বৃত্তি প্রদান করা হবে: ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে এবং ৪৯ হাজার ৫০০ জন সাধারণ বৃত্তি পাবে। এই বৃত্তি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথে যেমন উৎসাহ যোগাবে, তেমনি তাদের মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দুয়ার খুলে দেবে।