গতকাল বা তার আগের দিন, পর্তুগালের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার গনসালো রামোসকে এক মিনিটও খেলার সুযোগ না দেওয়ায় সমালোচনার তীরে বিদ্ধ কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের গোল করার ক্ষমতা জানলে আপনার চোখ কপালে উঠতে পারে!
পর্তুগালের এই ফরোয়ার্ড ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপের আসর মিলিয়ে মাত্র ১৮৭ মিনিট মাঠে নেমেই ৪টি গোল করেছেন। অর্থাৎ, গড়ে প্রতি ৪৭ মিনিটে একটি করে গোল করেছেন তিনি! বিশ্বকাপ ইতিহাসে (ন্যূনতম ১৫০ মিনিট মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে) প্রতি গোল করতে সবচেয়ে কম সময় নেওয়া ফুটবলারদের তালিকায় তিনি রয়েছেন ষষ্ঠ স্থানে। সীমিত সময়ে মাঠে নেমে এমন অনন্য রেকর্ড গড়েছেন রামোস, যা তার গোলক্ষুধা ও দক্ষতার প্রমাণ।
অথচ এমন দুর্দান্ত পরিসংখ্যান থাকা সত্ত্বেও এবারের নকআউট পর্বে নিয়মিত একাদশে জায়গা পাননি তিনি। বিশেষ করে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমেই তিনি জয়সূচক গোলটি করেছিলেন, যা দলের জয়ে entscheidende ভূমিকা রেখেছিল। তবে স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে রামোসকে পুরো সময় বেঞ্চেই বসে থাকতে হয়। এর ফলে বিশ্বকাপের গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগও পাননি এই তরুণ ফরোয়ার্ড, যা পর্তুগিজ ফুটবলপ্রেমীদের হতাশার কারণ।
কম সময়ে সর্বোচ্চ কার্যকর গোলদাতাদের তালিকায় জায়গা করে নিয়ে রামোস প্রমাণ করেছেন যে, সুযোগ পেলে ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়ার অসাধারণ সামর্থ্য তার রয়েছে। তবে সেই সুযোগ এবারের বিশ্বকাপে তিনি পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেননি কোচ রবার্তো মার্টিনেজের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে। পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ার পর, এই প্রশ্নটিই এখন ফুটবল মহলে সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে: রামোসকে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত কি সত্যিই দলের জন্য সেরা ছিল?