বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬-এর সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে হঠাৎ করেই রাজধানী ঢাকাসহ এর সংলগ্ন মধ্যাঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে গেল এক ভয়ংকর কালবৈশাখী ঝড়। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করার আগেই, আকস্মিক এই ঝড় রাজধানীর জনজীবনে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। আনুমানিক সন্ধ্যা ৬:৩০ থেকে শুরু হওয়া এই ঝড়ের সঙ্গে ছিল প্রবল বজ্রপাত এবং মুষলধারে বৃষ্টি। গত কয়েক দশকের মধ্যে জুলাই মাসে এমন তীব্র কালবৈশাখীর অভিজ্ঞতা বিরল বলে মন্তব্য করেছেন আবহাওয়াবিদরা।
ঝড়ের তাণ্ডবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে মিরপুর, গুলশান, ফার্মগেট, এবং পুরান ঢাকার কিছু অংশে গাছপালা উপড়ে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং অসংখ্য বিলবোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক সড়কে গাছ ভেঙে পড়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে ব্যাপক সংখ্যক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা নাগরিক জীবনে চরম ভোগান্তি এনেছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী, ধানমন্ডির বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম জানান, "হঠাৎ করেই আকাশ অন্ধকার হয়ে গেল, মনে হচ্ছিল যেন দিনের বেলা রাত নেমে এসেছে। বাতাসের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, আমাদের বাসার কাঁচের জানালা কেঁপে উঠছিল। এমন ঝড় বহুদিন দেখিনি।"
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD) জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, "আজ সন্ধ্যা ৬:২০ মিনিটে ঢাকাসহ মধ্যাঞ্চলের উপর দিয়ে একটি তীব্র কালবৈশাখী ঝড় বয়ে গেছে। এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৭০-৮০ কিলোমিটার। আগামী ১-২ ঘণ্টার মধ্যে আরও কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে মাঝারি থেকে তীব্র ঝড়ো বাতাস এবং ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।" অধিদপ্তর জনসাধারণকে নিরাপদ স্থানে থাকতে এবং বজ্রপাত থেকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (BPDB) একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঝড়ের কারণে শহরের অন্তত ৩০% এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাতভর কাজ চলবে।
এই অপ্রত্যাশিত তীব্র ঝড়ের কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে দায়ী করছেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা ঝড়ের পরপরই উপড়ে পড়া গাছপালা অপসারণে এবং সড়ক স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একাধিক টিমও বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত রয়েছে। তবে, সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঘরে ফেরা মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে, বিশেষ করে গণপরিবহন সংকটে বহু মানুষ আটকে পড়েছেন।