গ্রীষ্মের উষ্ণতা বাড়ার সাথে সাথেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মনে উৎসবের আমেজ শুরু হয়। আর সেই আয়োজন যদি হয় বার্ষিক বনভোজন, তবে তা যেন সুদূর প্রবাসে এক টুকরো লাল-সবুজের বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায়, গত রোববার (৫ জুলাই) মিশিগানের হ্যারিসন টাউনশিপের মেট্রো পার্কে হবিগঞ্জ জেলা অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগান আয়োজন করে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক মিলনমেলা ও বনভোজন। এদিন সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা থাকলেও, তাতে উৎসবের রঙে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি; বরং এক উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী আয়োজন চলে।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বেলুন উড়িয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে, যা উপস্থিত সকলের হৃদয়ে এক অন্যরকম আবেগ তৈরি করে। অতিথিদের জন্য ছিল সুস্বাদু মধ্যাহ্নভোজ, যেখানে পরিবেশন করা হয় হরেক রকমের দেশীয় খাবার, যা যেন প্রবাসে দেশের স্বাদ এনে দেয়। দিনভর চলে শিশুদের দৌড় প্রতিযোগিতা, নারীদের বালিশ খেলা, মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, এবং গান-আড্ডায় মেতে ওঠেন সকলে। বিশেষ করে, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে ছিল নানা আয়োজন, যা তাদের শিকড়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।
এবারের বনভোজনের এক অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশ্বকাপ ফুটবলের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার। খেলা ঘিরে দর্শকদের উচ্ছ্বাস, করতালি আর সমর্থকদের আবেগ পুরো আয়োজনকে ভিন্ন মাত্রা দেয়, যদিও ব্রাজিলের পরাজয়ে অনেক সমর্থকের মুখে বিষাদের ছাপ নেমে আসে। সংগঠনের সভাপতি মো. নুর মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, "প্রতি বছরের মতো এবারের আয়োজনটা ছিল একে অপরের বন্ধন অটুট রাখা এবং পারস্পরিক সহযোগিতায় আমাদের পথচলা দৃঢ় রাখা। পাশাপাশি আমাদের প্রজন্মকে নিজেদের সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত রাখা।" তারা অনুষ্ঠানটিকে সফল ও সার্থক করে তোলার জন্য সকল অতিথিদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
দিনের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত র্যাফেল ড্র, যেখানে একটি গাড়িসহ আকর্ষণীয় ও নান্দনিক বহু পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আনন্দ, সম্প্রীতি ও স্মৃতিময় মুহূর্তে ভরপুর এই বনভোজন প্রবাসী হবিগঞ্জবাসীর মিলনমেলাকে আরও একবার প্রাণবন্ত করে তোলে। সুদূর মিশিগানে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর পারস্পরিক ভালোবাসার এই মেলবন্ধন প্রবাস জীবনের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হয়ে রইল।