বাংলাদেশের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের এক স্বপ্নদ্রষ্টা ও পথিকৃৎ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল (অব.) আমজাদ খান চৌধুরীর একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ, ৮ জুলাই ২০২৬, বুধবার। দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখা এই মহান ব্যক্তিত্ব ২০১৫ সালের এই দিনে (৮ জুলাই) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার স্মরণে আজ বাদ আসর রাজধানীর বাড্ডায় প্রাণ সেন্টারে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কর্মীরা অনলাইনেও যুক্ত হতে পারবেন, যা তার প্রতি কর্মীদের গভীর শ্রদ্ধাবোধের প্রতিফলন।
১৯৩৯ সালের ১০ নভেম্বর নাটোর জেলায় এক সম্ভ্রান্ত চৌধুরী পরিবারে জন্ম নেওয়া আমজাদ খান চৌধুরীর বর্ণাঢ্য জীবন শুরু হয়েছিল ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউটে। এরপর ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং অস্ট্রেলিয়ান স্টাফ কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনে তিনি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা আর দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে ১৯৮১ সালে মেজর জেনারেল হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন, যা তার পরবর্তী সাফল্যের ভিত্তি স্থাপন করে।
সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর আমজাদ খান চৌধুরী তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে নেমে পড়েন। তার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয় রংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেড (আরএফএল), যা পরবর্তীতে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তার অপরিসীম দূরদর্শিতা ও সৃজনশীলতার ফসল এই গ্রুপ আজ দেশের শীর্ষস্থানীয় খাদ্য ও গৃহস্থালি পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এই গ্রুপে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য বিশ্বের ১৪৮টি দেশে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
একজন সফল শিল্পোদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি আমজাদ খান চৌধুরী ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ জনহিতৈষী। তিনি মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (আইডিসিএল), বাংলাদেশ ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যিক সংগঠনের সভাপতি, পরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যুর পর মরণোত্তর চক্ষুদান ছিল তার মহানুভবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার জীবদ্দশায় 'আমজাদ খান চৌধুরী মেমোরিয়াল হাসপাতাল' প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ছিল, যা বর্তমানে তার পরিবারের হাত ধরে বিকশিত হচ্ছে। এমন মানুষেরা সত্যিই কখনো মারা যান না, তারা তাদের কর্ম ও দর্শনের মধ্য দিয়ে অমর হয়ে থাকেন।