দিনের পর দিন চলে আসা একটি বিতর্ক: সুস্থতার জন্য দিনে তিন বেলা ভরপেট খাওয়া উচিত, নাকি অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া জরুরি? দীর্ঘকাল ধরে একটি ধারণা প্রচলিত যে, ঘন ঘন স্বল্প পরিমাণে খাবার গ্রহণ করলে আমাদের বিপাকক্রিয়া সচল থাকে এবং শরীর বেশি সুস্থ থাকে। কিন্তু বর্তমান সময়ে পুষ্টিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এই ধারণার সরলীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের মতে, সবার শরীরের চাহিদা এক নয়, তাই সবার জন্য একই খাদ্যাভ্যাস প্রযোজ্য হতে পারে না।
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন যে, আমাদের পাকস্থলীরও বিশ্রাম প্রয়োজন। একবার খাবার গ্রহণের পর তা সম্পূর্ণ হজম হয়ে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। যদি বিরতি ছাড়াই বারবার খাওয়া হয়, তাহলে হজমতন্ত্রকে প্রায় সারাক্ষণই কাজ করতে হয়। এর ফলস্বরূপ অনেকে পেট ফাঁপা, গ্যাস, অস্বস্তি, বদহজম বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যায় ভোগেন। এছাড়াও, সারাদিন কিছু না কিছু খেতে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক ক্ষুধা ও তৃপ্তির সংকেত ব্যাহত হতে পারে। এতে করে কখন সত্যিই ক্ষুধা লেগেছে আর কখন কেবল অভ্যাসবশত খাওয়া হচ্ছে, সেই পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে যায়।
ঘন ঘন খাওয়া মানেই যে ওজন বাড়বে, এমনটা নয়। তবে প্রতিটি খাবারে যদি অতিরিক্ত ক্যালরি, চিনি বা চর্বি থাকে, তাহলে দিনের শেষে মোট ক্যালরির পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। পুষ্টিবিদরা আরও বলছেন, সারাক্ষণ কিছু না কিছু খাওয়ার অভ্যাস ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন লেপটিন ও ঘ্রেলিন-এর স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে কখন পেট ভরে গেছে, তা বুঝতে দেরি হয় এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘকাল ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘন ঘন খাওয়া বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে।
সুতরাং, অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া inherently ভুল নয়, তবে এর পেছনে থাকতে হবে সঠিক কারণ ও সচেতনতা। গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রকৃত ক্ষুধা লাগলে তবেই খাওয়া এবং প্রতিটি বারে পুষ্টিকর ও পরিমিত খাবার গ্রহণ করা। বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেকেই ঘড়ি ধরে বা অন্যদের সাথে তাল মিলিয়ে খান, যা শরীরের প্রকৃত চাহিদাকে উপেক্ষা করে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, নিজের শরীরের প্রয়োজনকে বুঝতে শিখুন এবং সে অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। পরিমিত ও সচেতনভাবে খাওয়া-ই সুস্থ জীবনধারার চাবিকাঠি।