গতকাল গভীর রাতে, রাত প্রায় ১১:৩০ মিনিটে নরসিংদী জেলার বুড়িয়া এলাকায় এক সরকারি আবাসন প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলার সময় মাটি খুঁড়তে গিয়ে আচমকা বেরিয়ে এলো এক অবিশ্বাস্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, মাটির প্রায় ১৫ ফুট নিচে শক্ত পাথরের মতো কিছু একটা আঘাত করার পর তারা কাজ থামিয়ে দেন। পরে দেখা যায়, এটি কোনও প্রাকৃতিক পাথর নয়, বরং সুপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এক প্রাচীন কাঠামোর অংশ। তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ করে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, আবিষ্কৃত এই কাঠামোর ধরণ দেখে প্রত্নতত্ত্ববিদরা এটিকে হাজার বছরের পুরোনো কোনও স্থাপনার অংশ বলে ধারণা করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সম্ভবত প্রাচীন বাংলার কোনো দুর্গ, মন্দির বা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবনের দেয়াল বা ভিত্তি হতে পারে। নরসিংদীর পাশেই অবস্থিত উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে এই নতুন আবিষ্কার এক নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছে। এটি কি উয়ারী-বটেশ্বর সভ্যতারই বর্ধিত অংশ, নাকি একেবারেই ভিন্ন এক সভ্যতার ইঙ্গিত? এই প্রশ্নগুলোই এখন বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলছে।
বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, এই বিষয়ে বলেন, “আমরা এই খবর পাওয়া মাত্রই গভীর রাতে একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণগুলো অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। যদি এটি উয়ারী-বটেশ্বর বা সমসাময়িক কোনো বৃহৎ সভ্যতার নতুন কেন্দ্র হয়, তাহলে এটি নিঃসন্দেহে প্রাচীন বাংলার ইতিহাসকে নতুন করে লিখতে বাধ্য করবে। এখনই এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত পূর্ণাঙ্গ খনন কাজ শুরু করা অত্যন্ত জরুরি।”
এই অভাবনীয় আবিষ্কারের খবর দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র কৌতূহল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক উৎসুক জনতা গভীর রাত থেকেই ঘটনাস্থলের আশেপাশে ভিড় করতে শুরু করেছেন। স্থানীয় স্কুল শিক্ষক এবং ইতিহাস গবেষক আব্দুল মালেক চৌধুরী জানান, “আমরা এতদিন উয়ারী-বটেশ্বরের সমৃদ্ধ ইতিহাস নিয়ে গর্ব করেছি। এখন মনে হচ্ছে, আমাদের মাটির নিচে আরও কত শত অজানা ইতিহাস লুকিয়ে আছে! এই আবিষ্কার নিঃসন্দেহে আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”
আজ বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই ২০২৬) ভোর হতেই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ দল নরসিংদীর বুড়িয়া এলাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্তারিত তদন্ত ও গবেষণা শুরু করবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সুরক্ষা এবং বিজ্ঞানসম্মত খনন নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই নতুন আবিষ্কার প্রাচীন বাংলার ইতিহাস গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।