মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন করে শঙ্কার মেঘ ঘনিয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গতকাল (মঙ্গলবার, ৭ জুলাই) এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান বিক্রি করে, তবে তা এই অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্য পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে। তার এই সতর্কবার্তা এসেছে এমন এক সময়ে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, তিনি তুরস্ককে এফ-৩৫ বিক্রির বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে গতকাল জানানো হয়, সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "এটা মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ধ্বংস করবে। কারণ, আমার ধারণা তুরস্কের আগ্রাসনমূলক মনোভাব রয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "যখন আপনি তাদের হাতে এই ক্ষমতা তুলে দেবেন, আপনাকে আগ্রাসনের উত্থান দেখতে হবে।" নেতানিয়াহু বহু আগে থেকেই তুরস্ককে এফ-৩৫ দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের কৌশলগত নিরাপত্তা নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগেরই প্রতিফলন।
স্মর্তব্য, ২০১৯ সালে রাশিয়া থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে আমেরিকা তুরস্ককে এফ-৩৫ প্রোগ্রাম থেকে বাদ দিয়েছিল। তবে, তুরস্ক শুরু থেকেই এই এলিট প্রোগ্রামে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে সুসম্পর্কের সুবাদে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন এবং দ্রুতই ৫টি এফ-৩৫ জেট হাতে পাওয়ার আশা করছেন, যার দাম ইতোমধ্যেই পরিশোধ করা হয়ে গেছে বলে জানা যায়।
নেতানিয়াহুর এই কঠোর হুঁশিয়ারি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াতে চাইছে, সেখানে এফ-৩৫-এর মতো পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তুরস্কের হাতে আসা মানে ক্ষমতার সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসা। এটি শুধুমাত্র ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াবে না, বরং অঞ্চলের অন্যান্য শক্তিগুলোর মধ্যেও নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার জন্ম দিতে পারে।