২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে কলম্বিয়া ও সুইজারল্যান্ডের লড়াই দেখতে গতকাল সন্ধ্যায় (৭ জুলাই ২০২৬) মাঠে উপস্থিত ছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। তাঁর জন্মভূমি সুইজারল্যান্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি আরও এক নাটকীয় ম্যাচের সাক্ষী হয়েছিলেন, যেখানে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করে। এই ম্যাচটি নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক, যা ফুটবল বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপ থেকে মিশরের বিদায় নিশ্চিত হলেও, ইনফ্যান্তিনো তাদের প্রতি সম্মান জানাতে দ্বিধা করেননি। কলম্বিয়া-সুইজারল্যান্ড ম্যাচের সময় স্টেডিয়ামে তিনি মিশরের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও মিশরের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের প্রতি ফিফার সর্বোচ্চ কর্মকর্তার শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তাঁর এই আচরণকে অনেকেই ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন। ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এই পদক্ষেপ বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
তবে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশর দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান এবং কয়েকজন খেলোয়াড় ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে যে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি ফিফা সভাপতি। মিশর দাবি করেছে, ম্যাচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ রেফারিং সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে গেছে, যা ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। এই অভিযোগগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও ইতোমধ্যে ফিফার কাছে জানানো হয়েছে, যা ফিফার বিবেচনার অধীনে রয়েছে।
রেফারিং বিতর্ক সত্ত্বেও ইনফ্যান্তিনোর মিশরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। একদিকে যেমন এটি একটি বিদায়ী দলের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, এমন গুরুতর বিতর্কিত রেফারিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফিফার সর্বোচ্চ পদাধিকারীর নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ। ফুটবল বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, ফিফা এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে কবে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং এর পরিণতি কী হয়, যা সম্ভবত আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হবে।