ফুটবল বিশ্বে লিওনেল মেসি মানেই নতুন ইতিহাস। চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে এক অসাধারণ অ্যাসিস্ট করে আবারও নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে মেসিই এখন বিশ্ব ফুটবলের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করিয়ে রেকর্ড গড়লেন। গত বুধবার, ০২ জুলাই ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে রোমেরোকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ফুটবলের জাদুকর মেসি, যা তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এক নতুন মাইলফলক।
মেসির এই অনবদ্য রেকর্ড গড়তে সহায়ক হয়েছে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স। ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ আসরগুলিতে তিনি একটি করে অ্যাসিস্ট করেন। এরপর ২০১৮ বিশ্বকাপে দুটি এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তিনটি অ্যাসিস্টের নজির গড়েন। আর এই ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে মিশরের বিপক্ষে করা অ্যাসিস্টটি তার ষষ্ঠ ভিন্ন বিশ্বকাপে করা প্রথম অ্যাসিস্ট, যা তাকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এর আগে কোনো ফুটবলার তিনটির বেশি ভিন্ন আসরে অ্যাসিস্ট করতে পারেননি।
এই অবিশ্বাস্য অর্জন কেবল মেসির ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বই প্রমাণ করে না, বরং ফুটবলে তার অতুলনীয় প্রভাব ও ভিশনেরও পরিচায়ক। তার মতো একজন খেলোয়াড় যে এমন দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছেন, তা এক কথায় বিরল। ফুটবল বোদ্ধারা বলছেন, 'মেসির এই রেকর্ড শুধু সংখ্যা নয়, এটি তার খেলোয়াড়ি বুদ্ধি, মাঠের দূরদর্শিতা এবং দলের প্রতি তার অবিচল নিবেদনকে তুলে ধরে। ছয়টি বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করা মানে ছয়বার নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করা, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।' এই কীর্তি মেসিকে সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের মধ্যে এক নতুন আসনে বসিয়েছে।
মেসির এই রেকর্ড বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় যোগ করল। তার এই অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। গোল করা, গোল করানো এবং প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার শিল্পে মেসি যে এক অনবদ্য শিল্পী, তা তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন। তার জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখতে ফুটবলপ্রেমীরা আজও উন্মুখ হয়ে থাকে, যা তার কিংবদন্তী স্থানকে আরও সুদৃঢ় করে।