মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আবারও চরমে পৌঁছেছে। ইরান আজ বুধবার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলা গতকাল মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ইরান-লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলার সরাসরি জবাব। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের নৌ ও বিমান বাহিনী সমন্বিতভাবে এই আক্রমণ পরিচালনা করেছে, যা আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কাকে আরও তীব্র করেছে।
আইআরজিসি-র বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে যে, এই হামলায় কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি সুনির্দিষ্টভাবে নিশানা করা হয়েছে। ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার দাফন ও সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে ম্লান করার চেষ্টার প্রতিশোধ। একই সঙ্গে, গতকাল হরমোজগান ও মাহশাহরের উপকূলীয় অঞ্চলে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো বিমান হামলার প্রতিও এটি স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া।
এদিকে, ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দফতর কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে, 'আমেরিকান সন্ত্রাসবাদের' কোনো জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে না। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর জন্য ইসলামী প্রজাতন্ত্র কর্তৃক নির্ধারিত পথই একমাত্র নিরাপদ। ওয়াশিংটনের এই নৌপথে হস্তক্ষেপের যেকোনো প্রচেষ্টা 'কোনো অবস্থাতেই' মেনে নেওয়া হবে না বলে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে। এছাড়া, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অধীনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের প্রতি এসব হামলা সম্পূর্ণ অবজ্ঞার শামিল বলেও ইরান উল্লেখ করেছে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। হরমুজ প্রণালি, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট, সেখানে ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি এবং হামলার ঘটনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘনের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে, যেখানে একটি ছোট ভুলও ব্যাপক আঞ্চলিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।