মালদ্বীপের রাজধানী মালের পশ্চিম হারবার এলাকার ফুড কোর্টে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২৭ জন বিদেশিকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ। সাম্প্রতিক এই আকস্মিক অভিযান মালদ্বীপ সরকারের বিদেশি শ্রমিকদের ওপর কঠোর নজরদারি এবং অবৈধ অভিবাসন দমনের চলমান প্রচেষ্টারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম হারবার এলাকার বিভিন্ন ক্যাফেতে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের লক্ষ্য করে একটি টাস্কফোর্স এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মোট ৮৮ জন বিদেশি কর্মীর কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর মধ্যে বৈধ কাগজপত্র বা কর্ম অনুমতির শর্ত লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট অভিযোগে ২৭ জনকে ইমিগ্রেশনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফুড কোর্টের প্রায় সব ক্যাফেতেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন। তাই এ খাতে আইন মেনে বিদেশি নিয়োগ নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ অভিবাসন রুখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্মরণীয় যে, এর আগে চলতি বছরের মে মাসে, অর্থাৎ আজ বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে প্রায় দেড় মাস আগে, একই ধরনের অভিযানে ২৫৪ জন বিদেশিকে ইমিগ্রেশনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। মালদ্বীপ সরকার অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ হিসেবে ২০২৪ সালের মে মাসে ‘অপারেশন কুরাঙ্গি’ শুরু করে। এই কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত ১,৯১,৭২৩ জনেরও বেশি বিদেশি কর্মীর ১০ আঙুলের ছাপ ও ছবি সংগ্রহ করে জাতীয় ডাটাবেজ হালনাগাদ করা হয়েছে, যা মালদ্বীপের বিদেশি শ্রম বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানোর এক বিশাল উদ্যোগ।
কর্ম অনুমতিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওয়ার্ক পারমিটধারী এবং বৈধ পরিচয়পত্রবিহীন বিদেশিদের বৈধতার আওতায় আনার সুযোগ দেওয়া হলেও, আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মালদ্বীপ কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আপস করতে নারাজ। এরই মধ্যে অবৈধভাবে অবস্থানকারী অনেক বিদেশিকেও আটক করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই অভিযানগুলি মালদ্বীপের শ্রম বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞারই প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।