নেত্রকোনার কলমাকান্দা হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের মানবিক সহায়তা বিতরণে গুরুতর স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (SAAO) তার স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের নাম ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রকৃত কৃষকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা, যা স্থানীয় প্রশাসন ও জনমনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
আজ থেকে ঠিক ৪ দিন আগে, গত শনিবার (৪ জুলাই, ২০২৬) পোগলা ইউনিয়নের পাবই গ্রামের মো. নুরে আলমসহ ২৪ জন কৃষক স্বাক্ষরিত এক অভিযোগে জানানো হয়, পোগলা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর আলম ও নূর খান দুর্গত কৃষকদের বাদ দিয়ে নিজেদের পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের নাম সুবিধার তালিকায় ঢুকিয়েছেন। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, সরকার বিনামূল্যে সার, বীজ ও বিভিন্ন কৃষি প্রণোদনা দিলেও তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির কারণে প্রকৃত কৃষকরা সবসময় বঞ্চিত হচ্ছেন। এ কারণে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
সহায়তা বিতরণের তালিকা যাচাই করে দেখা যায়, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে, গত ১৭ জুন, ২০২৬ তারিখে হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির সহায়তা একসঙ্গে বিতরণ করা হয়। এতে প্রত্যেককে ছয় হাজার টাকা নগদ ও ৩০ কেজি চাল দেওয়া হয়েছিল। সেই তালিকায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর আলমের স্ত্রী শাহিনুর আক্তারের নাম সুস্পষ্টভাবে রয়েছে। মজার বিষয় হলো, তিনি স্বামীর নামের পরিবর্তে তার বাবার নাম আবু সিদ্দিক ব্যবহার করেছেন। আরও অভিযোগ উঠেছে যে, শাহিনুর আলমের বড় ভাই রফিকুল আলমের স্ত্রী তৌহিদা খাতুনসহ তার অন্তত ১৫ জন নিকটাত্মীয়ের নামও তালিকায় বিদ্যমান। এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহিনুর আলমের সাথে একাধিকবার মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার পক্ষ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শাহিনুর আলম একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও কৃষি প্রণোদনার তালিকায় তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তার কাছ থেকে এমন অনৈতিক আচরণ আমরা কখনোই প্রত্যাশা করি না।’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘পোগলা ইউনিয়নের তালিকায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর আলমের স্ত্রীর নাম থাকার বিষয়টি আমরা জেনেছি। ওই নামটি দ্রুত বাদ দিয়ে সেখানে একজন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ এই আশ্বাস কতটুকু কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।