অজান্তেই কি আপনার ওজন বাড়ছে, অথচ আপনি ডায়েট আর শরীরচর্চায় কোনো কমতি রাখছেন না? এর পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে আপনার ঘুমের অভাব। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের মেটাবলিজম কমে যায় এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা সরাসরি ওজন বৃদ্ধির কারণ।
ঘুমের অভাবে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী দুটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন—ঘ্রেলিন ও লেপটিনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। ঘ্রেলিন ক্ষুধা বাড়ায় এবং লেপটিন পূর্ণতার অনুভূতি দেয়। কম ঘুম ঘ্রেলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং লেপটিনের মাত্রা কমিয়ে দেয়, ফলে আপনার অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এটি গভীর রাতে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ইচ্ছাও তৈরি করে, যা ওজন বাড়াতে সহায়ক। আজ ৮ই জুলাই ২০২৬, বুধবার সকালে অনেকেই এই সমস্যা নিয়ে অবগত নন।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের ফাস্ট ফুড এবং চিনিযুক্ত পানীয়র প্রতি আকর্ষণ বেশি থাকে। এর কারণ হলো মস্তিষ্কের যে অংশ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে, ঘুমের অভাবে তা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে ওঠে এবং শরীরচর্চার প্রতিও আগ্রহ কমে যায়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে শুধু ডায়েট বা এক্সারসাইজ নয়, পর্যাপ্ত ঘুমও অপরিহার্য। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠা, ঘুমানোর আগে কফি বা ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেট ব্যবহার এড়িয়ে চলা, এবং শোবার ঘর অন্ধকার ও শান্ত রাখা—এই সাধারণ অভ্যাসগুলো আপনার ঘুমের মান উন্নত করতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম আপনার হরমোনের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনবে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে এবং আপনাকে দেবে এক সুস্থ জীবন।