গতকাল, ৭ জুলাই ২০২৬, ঢাকা থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেসের প্রায় এক হাজার যাত্রীর জন্য ছিল এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা। তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা থাকলেও, ট্রেনের ভেতরেই কাটল পুরোটা দিন, সঙ্গে যোগ হয়েছিল মঙ্গলবার দিবাগত রাতের দীর্ঘ সময়। অপ্রত্যাশিত এই দীর্ঘসূত্রতা যাত্রীদের সাধারণ ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণভাবে এলোমেলো করে দিয়েছে, যার ফলে সৃষ্ট হয়েছে চরম ভোগান্তি ও ক্লান্তি।
যাত্রীরা তাদের পরিবার ও বন্ধুদের সাথে নিয়ে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের রূপ উপভোগ করার স্বপ্ন নিয়ে ট্রেনে উঠেছিলেন। কিন্তু যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পর থেকেই তারা উপলব্ধি করতে শুরু করেন যে তাদের এই ভ্রমণ মোটেই স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে না। একে তো পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, তার উপর খাবারের অপ্রতুলতা এবং ওয়াশরুমের মতো মৌলিক সুবিধার অপ্রাপ্যতা – সব মিলিয়ে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়। “ট্রেনের ভেতরে পুরো একটা দিন কাটানোটা ছিল এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। ঘুম, খাওয়া-দাওয়া সবকিছুই ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল,” একজন যাত্রী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, যা হাজারো সহযাত্রীর অনুভূতিরই প্রতিচ্ছবি।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের কারণে যাত্রীদের কেবল শারীরিক কষ্টই নয়, মানসিক চাপও বৃদ্ধি পায়। কক্সবাজারে পৌঁছানোর পর তাদের হোটেল বুকিং থেকে শুরু করে অন্যান্য সকল পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। অনেকেরই গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা জরুরি মিটিং ছিল যা এই অপ্রত্যাশিত কারণে বাতিল করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও ছুটি কাটানোর আনন্দ বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হয়, যা তাদের স্মৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী তিক্ততা এনে দেয়।
রেলওয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই দীর্ঘ বিলম্বের কারণ স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি, যা যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। প্রায় ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ট্রেনের ভেতরে আটকে থাকা হাজারো যাত্রীর এমন ভোগান্তি দেশের দীর্ঘপাল্লার ট্রেন পরিষেবা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এবং এমন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে রেল কর্তৃপক্ষের আরও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল ও ভুক্তভোগী যাত্রীরা।