গত পরশু, অর্থাৎ 6 জুলাই 2026, কিশোরগঞ্জে একটি চাঞ্চল্যকর গোপন তালিকা ফাঁস হয়েছে, যা স্থানীয় ব্যবসা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এই হস্তলিখিত তালিকাটিতে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা চালু করার জন্য অনানুষ্ঠানিক ‘ফি’ বা অবৈধ চাঁদার সুনির্দিষ্ট হার উল্লেখ করা হয়েছে। ফাঁস হওয়া এই তথ্যে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ছোট একটি চা দোকান থেকে শুরু করে বড় গোডাউন পর্যন্ত সবকিছুর জন্য আলাদা আলাদা হারে অর্থ দাবি করা হচ্ছে।
তালিকায় দেখা যায়, একটি চা দোকান খোলার জন্য ২০ হাজার টাকা, অন্য সাধারণ দোকানের জন্য ৩০ হাজার টাকা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। খাবার হোটেল ও অফিসের ক্ষেত্রেও একই ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং গোডাউন স্থাপনের জন্য সর্বনিম্ন মাসিক ৫ হাজার টাকা ও প্রাথমিক 'সেলামি' হিসেবে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত উল্লেখ আছে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য বিরাট বোঝা। ফ্ল্যাটের জন্যও ৫০ হাজার টাকা ‘সেলামি’র কথা বলা হয়েছে, যা আবাসনের ক্ষেত্রেও অবৈধ চাঁদাবাজির ইঙ্গিত দেয়।
এই ধরনের অবৈধ চাঁদা আদায়ের ফলে একদিকে যেমন নতুন উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, অন্যদিকে বিদ্যমান ব্যবসায়ীরাও সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, 'প্রতিটা ছোট ব্যবসার জন্যও যদি এত টাকা 'সেলামি' দিতে হয়, তাহলে নতুন করে ব্যবসা শুরু করার সাহস পাবো কোথায়? আমাদের লাভের বেশিরভাগই চলে যায় এসব অবৈধ পকেটে।' এই ঘটনা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং বিনিয়োগের পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।
ফাঁস হওয়া এই তালিকা স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি এবং আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। জনমনে ধারণা জন্মেছে যে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এমন অনৈতিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ। আজকের (৮ জুলাই ২০২৬) সকাল পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি, তবে জনমত চাপ বাড়তে থাকলে দ্রুতই এর সুরাহা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।