পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহ এলাকায় গত ৩রা জুলাই, শুক্রবার বিকেলে ফিলিস্তিনিদের এক বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করার সময় ইসরায়েলি পুলিশের স্টান গ্রেনেড ব্যবহারের একটি ভিডিও বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তা ফিলিস্তিনি পতাকা লাগানো একটি গাড়ির দিকে অতর্কিতে স্টান গ্রেনেড ছুড়ছেন, যা গাড়িটির কাছাকাছি বিস্ফোরিত হয়।
ভিডিওতে আরও স্পষ্ট দেখা যায় যে, গ্রেনেড ছুড়ে মারার পর ওই পুলিশ কর্মকর্তা তার অস্ত্র গাড়ির দিকে তাক করেন এবং এরপর গাড়িটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এই ঘটনা ইসরায়েলি বসতি স্থাপন বিরোধী বিক্ষোভ দমনকালে ঘটেছে বলে জানা গেছে, যা ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলি বাহিনীর দমন-পীড়নের নতুন উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঘটনাটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং বিভিন্ন দেশ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই নিন্দার মুখে ইসরায়েলি পুলিশ কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আচরণের বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পূর্ব জেরুজালেমের সিলওয়ান এলাকায় একটি ফিলিস্তিনি বাড়িতে ইসরায়েলি সীমান্ত পুলিশ কর্তৃক স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় চার বছর বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছিল। সেই ঘটনার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে যুদ্ধকালীন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়, যা এই অঞ্চলের সংবেদনশীলতা তুলে ধরে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিক এবং তাদের সম্পত্তির উপর স্টান গ্রেনেডের মতো অস্ত্র ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। চলমান ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতে এমন ঘটনাগুলো উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথে নতুন বাধা সৃষ্টি করছে, যা দ্রুত একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের অপরিহার্যতা স্মরণ করিয়ে দেয়।