ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে যে, রুশ বাহিনী ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে চলমান যুদ্ধে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়োগ করছে। গতকাল, অর্থাৎ ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে, ইউক্রেনীয় সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ (GUR) একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে একজন বাংলাদেশি বন্দিকে রুশ সামরিক ইউনিফর্মে দেখা যায়। এই দাবিটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে এবং ইউরোপে স্থানান্তরের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দালাল চক্রের মাধ্যমে রুশ বাহিনীতে নিয়োগ করা হচ্ছে। অনেকেই মনে করেন, মূলত রসদ সরবরাহ বা অন্যান্য অ-যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের কথা বলে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের জোর করে সম্মুখ সমরে পাঠানো হয়। ভিডিওতে প্রদর্শিত বাংলাদেশি বন্দি দাবি করেছেন, তাকে ৫০০০ ইউরো এবং রাশিয়ার নাগরিকত্বের বিনিময়ে লজিস্টিক বিভাগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি খারকিভের কাছে যুদ্ধে বাধ্য হন এবং সেখানেই ধরা পড়েন।
ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের মতে, শুধুমাত্র বাংলাদেশিরাই নয়, আফ্রিকা, কিউবা, নেপাল এবং ভারতের মতো দেশগুলো থেকেও প্রায় ১৫,০০০ বিদেশি নাগরিককে রুশ বাহিনীতে নিয়োগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে অনেককে যুদ্ধের ভয়াবহতা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বা আর্থিক সংকটের সুযোগ নিয়ে আনা হয়েছে। নেপালের অন্তত ৪০০ নাগরিকের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যারা রুশ বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মানব পাচারের একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে, যেখানে অসহায়দের যুদ্ধক্ষেত্রে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
এই অভিযোগ এমন এক সময় এসেছে যখন বাংলাদেশ সরকার রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে তার নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার জানিয়েছে যে, তারা কোনো পক্ষকে সমর্থন করে না এবং এই বিষয়ে কোনো সরকারি হস্তক্ষেপ নেই। তবে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে বা দালাল চক্রের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের যুদ্ধক্ষেত্রে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এটি বাংলাদেশের ভাবমূর্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।