দেশের প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানীয় জল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে আজ রাতে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, 'সকলের জন্য বিশুদ্ধ পানি' শীর্ষক এই বৃহৎ পরিসরের প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মধ্যে দেশের সকল গ্রামীণ পরিবারের দোরগোড়ায় নিরাপদ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই ঘোষণা আসায় দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এই প্রকল্পের অধীনে আগামী তিন বছরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে অত্যাধুনিক পানি পরিশোধন প্ল্যান্ট স্থাপন, নতুন নলকূপ খনন এবং পুরাতন ও অকার্যকর সরবরাহ ব্যবস্থা সংস্কার করা হবে। প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপে ২,৫০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, যা সরকার এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত হবে। এই উদ্যোগকে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী জনাব আলহাজ্ব মোঃ তসলিম উদ্দিন আজ রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, "এটি কেবল একটি প্রকল্প নয়, এটি দেশের লাখো গ্রামীণ মানুষের সুস্থ জীবন ও উন্নত ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি। আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে, ২০২৯ সালের মধ্যে দেশের কোনো পরিবারকেই বিশুদ্ধ পানির অভাবে কষ্ট পেতে হবে না। এই কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।" তিনি আরও জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জনসাধারণকেও সম্পৃক্ত করা হবে, যাতে টেকসই সমাধান নিশ্চিত হয়।
বিশুদ্ধ পানির অভাবে সৃষ্ট পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে এই প্রকল্পটি একটি বিশাল ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অঞ্চলে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং শিশুদের অপুষ্টি ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবেলায় সহায়ক হবে। সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপকে দেশের সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞরা সাধুবাদ জানিয়েছেন, যা দীর্ঘদিনের একটি মৌলিক সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।