ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য চলমান ফিডিং কর্মসূচির আওতায় ডিম, কলা ও বনরুটি বিতরণ বন্ধ হয়ে গেছে। বিল বকেয়া থাকায় সরবরাহকারীরা গত ঠিক এক মাস ধরে এই খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে উপজেলার ১৭৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী পুষ্টিবঞ্চিত হচ্ছে। এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা রুবায়াত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালককে অনুরোধ জানিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা রুবায়াতের সই করা এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ঠিক এক মাস আগে অর্থাৎ ৭ জুন থেকে গৌরীপুরের ১৭৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বনরুটি, কলা ও সেদ্ধ ডিম বিতরণ বন্ধ রয়েছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, ইউএইচটি দুধ এবং ফরটিফাইড বিস্কুট বিতরণ এখনো চলমান। প্রতি সপ্তাহের সোমবার ইউএইচটি দুধ এবং বুধবার ফরটিফাইড বিস্কুট বিতরণ করা হচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বনরুটি, কলা ও ডিম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে খাবার পাচ্ছে না। এ বিষয়ে সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা খাবারের বিল না পাওয়ায় বিতরণে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকারি এই ফিডিং কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই খাবার বিতরণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিশুদের মেধা বিকাশ ও বিদ্যালয়ে তাদের উপস্থিতির হার বাড়াতে সরকারের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে বিল বকেয়ার মতো প্রশাসনিক জটিলতার কারণে যখন এই মহৎ কর্মসূচি ব্যাহত হয়, তখন তা হতাশাজনক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর খাবার অপরিহার্য, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে সহায়ক। দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করে গৌরীপুরের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফোটাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।