বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬ইং
আসুন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই

আপনার ক্ষুদ্র অনুদান আমাদের সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীন ও সোচ্চার রাখতে সাহায্য করবে।

ENG
সর্বশেষ
বন্যার ভয়াবহতা: ১১ জেলায় মধ্যরাতে বিজিবি মোতায়েন, জরুরি সতর্কতা রাঙামাটিতে গভীর রাতে আলোড়ন: ৫০০ বছরের পুরনো 'গুপ্ত নগরীর' উন্মোচন? তৈরি পোশাক শিল্পে সরকারের চরমপত্র: মধ্যরাতে উত্তাল বিজিএমইএ! প্রবল বর্ষণে থমকে ঢাকা-চট্টগ্রাম: জলমগ্ন সড়কে নাকাল জনজীবন প্রত্যন্ত জনপদে বিদ্যুৎ বিপ্লব: 'কমিউনিটি গ্রিন এনার্জি হাব'-এর ঝলক! দেশের প্রধান শহরগুলিতে উদ্বেগজনক বায়ুদূষণ: নীরব ঘাতকের বিরুদ্ধে জরুরি সতর্কতা! সুনামগঞ্জের হাওরে ভোররাতে রহস্যময় জলস্তর পতন: মহাবিপদে লাখো জীবন! সুন্দরবনের গভীরে রহস্যময় আলোর বিস্ফোরণ: ভোররাতে চমকে উঠেছে বিশ্ব! গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জে বিষাক্ত বর্জ্যের ভয়াবহ নিঃসরণ: জরুরি অবস্থা জারি, আতঙ্কে জনপদ! লবণাক্ততা জয়: উপকূলীয় কৃষিতে নতুন বিপ্লবের ঘোষণা!

গণঅভ্যুত্থানের শহীদ সাব্বিরের পরিবার: দুই বছর পরেও দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন চার সন্তান ও স্ত্রী

গণঅভ্যুত্থানের শহীদ সাব্বিরের পরিবার: দুই বছর পরেও দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন চার সন্তান ও স্ত্রী
বিডিবি নিউজ চিত্র নেত্রকোনা
বিডিবি নিউজ এর সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই সংবাদটি এবং এর সাথে ব্যবহৃত ছবিটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেট করা হয়েছে।

আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার আশুলিয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছিলেন শ্রমিক সাব্বির ইসলাম। দেশের জন্য তাঁর এই আত্মত্যাগের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও, তাঁর পরিবার আজও দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার এক কঠিন বৃত্তে বন্দি। নিজের ভিটেমাটি না থাকায় অন্যের জমিতে কবর হয়েছিল সাব্বিরের। এখন তার স্ত্রী ফরিদা আক্তার চার সন্তান নিয়ে অসহায়ভাবে আশ্রয়ের খোঁজে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

গৃহভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় সম্প্রতি তাদের ভাড়া বাসা থেকেও বের করে দেওয়া হয়েছে। ফলস্বরূপ, সন্তানদের লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে গেছে, যা তাদের ভবিষ্যৎকে আরও অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। গত সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে, এই শহীদ পরিবারের খোঁজ নিতে প্রতিবেদক নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার বানিয়াজান এলাকায় সাব্বিরের শ্বশুরবাড়িতে গেলে উঠে আসে এই করুণ চিত্র। সাব্বিরের শ্যালক মো. চঞ্চল মিয়া জানান, "আমার বোন এখন এখানে ওখানে থাকছে, কোথায় আছে ঠিক জানি না। নিজেদের বাড়িতেও জায়গা কম, পারিবারিক অশান্তির কারণে তারা ভাড়াবাড়িতে উঠেছিল। কিন্তু ভাড়ার অভাবে সেখান থেকেও তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে।"

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে ঢাকার সাভারের আশুলিয়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে বাজার সদাই নিয়ে ঘরে ফেরার উদ্দেশ্য ছিল সাব্বির ইসলাম (৪৪)-এর। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে তিনি সেখানেই গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাৎবরণ করেন। নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার লুনেশ্বর ইউনিয়নের খিলা বাউন্দি গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে সাব্বির, নিজের পৈতৃক ভিটেমাটি না থাকায় তাঁর কবর হয় শ্বশুরবাড়ি এলাকায় অন্যের জমিতে। তাঁর তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে ১২ বছর বয়সী ছেলে মো. মমিন মিয়া বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ১৫ বছর বয়সী বড় মেয়ে লিজা আক্তার টাকার অভাবে পঞ্চম শ্রেণির পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেনি।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২২ বছর আগে বানিয়াজান গ্রামের জামাল উদ্দিনের মেয়ে ফরিদা আক্তারকে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি এলাকায় চলে যান সাব্বির। তাঁর শ্বশুরও ছিলেন দরিদ্র। সেখানে দিনমজুরিসহ বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। কিন্তু প্রায় ৯ বছর আগে তাদের কুঁড়েঘরটিও ভেঙে পড়ে। জীবিকার তাগিদে এরপর তিনি ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় পাড়ি জমান এবং একটি সরিষা তেলের কারখানায় কাজ নেন। সেখানেই স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে কোনোমতে দিন চলছিল তাদের, যতক্ষণ না ভাগ্য তাঁকে এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের অংশ করে নেয়।

সর্বশেষ সংবাদ
বিডিবি নিউজ
অনুসন্ধান করুন