আজ, ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে, গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের ১০০০ দিন পূর্ণ হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মানবিক বিপর্যয়ের এক ভয়াবহ মাইলফলক। এই প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে—সরকার বদলালে কি মধ্যপ্রাচ্য নীতিতেও পরিবর্তন আসবে? সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী এন্ডি বার্নাহামের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে ইসরায়েলের প্রতি ব্রিটেনের সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানে কোনো মৌলিক পরিবর্তন ঘটবে কি না, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
এক হাজার দিনের এই নৃশংস যুদ্ধকে ঘিরে ব্রিটেনের যুদ্ধবিরোধী সংগঠনগুলো নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে। তাদের দাবি, গাজায় চলমান নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের অস্ত্র বাণিজ্য অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এছাড়াও, এমন কোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া যাবে না, যা এই সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করে। তাদের মতে, একটি নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় নৈতিক পরীক্ষা হবে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে তারা কথার চেয়ে কাজে কতটা দৃঢ় অবস্থান নিতে পারে—বিশেষ করে যখন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইনের উপপরিচালক পিটার লিয়ারি এই ১০০০ দিনকে ‘ভয়াবহ এক মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, “নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার এই সময়টিকে ব্রিটিশ সরকারের জন্য একটি নীতিগত মোড় পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।” তাঁর ভাষায়, ব্রিটেনের উচিত ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের অস্ত্র বাণিজ্যের অবসান ঘটানো এবং যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে শক্তি জোগাচ্ছে বলে সমালোচকেরা মনে করেন, তা পুনর্বিবেচনা করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই দীর্ঘ সময়ে হাসপাতাল, বিদ্যালয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
ব্রিটিশ রাজনীতির প্রবীণ নেতা জেরেমি করবিনও একই সুরে বলেছেন, “গত এক হাজার দিনে ব্রিটেন অস্ত্র ও রাজনৈতিক সমর্থনের মাধ্যমে এমন এক সংঘাতের অংশীদার হয়েছে, যা ইতিহাসের কঠিন বিচার থেকে রেহাই পাবে না।” ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, কোনো যুদ্ধই স্থায়ী সমাধান এনে দেয় না। অস্ত্রের শক্তি সাময়িক বিজয় দিতে পারে, কিন্তু টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় ন্যায়বিচার, পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সমান শ্রদ্ধার ভিত্তিতে। গাজার ১০০০ দিন সেই নির্মম সত্যকেই আবারও আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, যা নতুন ব্রিটিশ সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।