২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এক বিস্ফোরক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। গত সপ্তাহের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে রেফারিং নিয়ে তীব্র সমালোচনার পর, ফিফা ঘোষণা করেছে যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) বোস্টনে অনুষ্ঠিতব্য ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করবেন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ রেফারি ফাকুন্দো তেয়ো। এই নিয়োগকে অনেকেই ফিফার এক সুদূরপ্রসারী 'ভারসাম্য রক্ষার' পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা চলমান টুর্নামেন্টে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটেছিল যখন আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে একজন ফরাসি রেফারি, ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই ম্যাচে তার বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশর যেমন চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে, তেমনি ম্যাচের আগে একজন ফরাসি রেফারিকে আর্জেন্টিনার ম্যাচে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে আর্জেন্টিনার প্রভাবশালী দৈনিক ‘লা নাসিওন’ তীব্র সমালোচনা করে শিরোনাম করেছিল, "অবাক করার মতো সিদ্ধান্ত, তিনি ফরাসি আর ফ্রান্স তো আর্জেন্টিনার অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বী।" এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফ্রান্সের ম্যাচে একজন আর্জেন্টাইন রেফারিকে নিয়োগ দেওয়ায় ফিফার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। উল্লেখ্য, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের মধ্যকার দ্বৈরথ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে, যেখানে টাইব্রেকারে জিতে শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। তাই এই দুই দেশের রেফারির নিয়োগে ফিফা যে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে, তা স্পষ্ট।
৪৪ বছর বয়সী ফাকুন্দো তেয়ো দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম অভিজ্ঞ রেফারি হিসেবে পরিচিত। কোপা লিবার্তাদোরেসের ফাইনালসহ তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এটি তার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। এবারের আসরে তিনি ইতোমধ্যে গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা-দক্ষিণ কোরিয়া এবং কানাডা-বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ম্যাচে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। যদিও এই বছরের শুরুর দিকে বিশ্বকাপ প্লে-অফে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও জ্যামাইকার ম্যাচ পরিচালনার সময় পায়ে চোট পাওয়ায় কোপা লিবার্তাদোরেসে পালমেইরাসের একটি ম্যাচে তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তবে সে বাধা কাটিয়ে বিশ্বকাপের এই গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচে বাঁশি বাজিয়ে তিনি আবারও আলোচনায় এলেন।
ফিফার এই সিদ্ধান্ত ফুটবল মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ একে যৌক্তিক ভারসাম্য হিসেবে দেখলেও, অনেকে বলছেন এটি বরং নতুন করে বিতর্ক উসকে দিচ্ছে। আগামীকালকের ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে ফাকুন্দো তেয়ো কিভাবে তার দায়িত্ব পালন করেন এবং তার সিদ্ধান্তগুলো কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই ম্যাচের জন্য, যেখানে রেফারিংও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।