মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের পর ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো আবারও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। গত মাসেই এই ঘটনা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যখন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অন্তত ৩৫ জন সদস্য ফিফার স্বাধীন নৈতিকতা কমিটির মাধ্যমে ইনফ্যান্তিনোর ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়ে একটি চিঠি দেন। তাদের অভিযোগ, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ফুটবলের নিরপেক্ষতা এবং ফিফার বিশ্বাসযোগ্যতাকে গুরুতর প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
বিতর্কের মূল কারণ হলো, ট্রাম্প নিজেই প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে তিনি ইনফ্যান্তিনোকে ফোন করে বালোগানের লাল কার্ডের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। এর পরপরই ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়, যা তাকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলার সুযোগ করে দেয়। এই ঘটনা দ্রুতই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তোলে। ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা তাদের চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, খেলার মাঠে রাজনৈতিক প্রভাবের কোনো স্থান নেই। তাদের মতে, যদি ফিফার মতো সর্বোচ্চ ক্রীড়া সংস্থার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক চাপের কারণে প্রভাবিত হয়, তাহলে বিশ্ব ফুটবলের সুশাসন ও ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এর ফল সুদূরপ্রাসরী হবে।
ফিফা অবশ্য বরাবরের মতো দাবি করেছে যে, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি নিয়েছে এবং এতে সভাপতি ইনফ্যান্তিনো ব্যক্তিগতভাবে কোনো হস্তক্ষেপ করেননি। ফিফার একজন মুখপাত্র গতকাল (মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬) এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমাদের শৃঙ্খলা কমিটি সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন এবং তারা নিজেদের নিয়মনীতি অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। সভাপতির পক্ষ থেকে কোনো প্রকার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ভিত্তিহীন।” তবে, এই ধরনের দাবি সত্ত্বেও, ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন এবং স্বচ্ছ তদন্তের উপর জোর দিচ্ছেন।
এই ঘটনা ইনফ্যান্তিনোকে ঘিরে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। গত বছর ট্রাম্পকে ফিফার ‘শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফ্যান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। সেই সম্পর্কই এবার নতুন করে বিশ্ব ফুটবলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের জন্ম দিয়েছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র আলোচনা চলছে। ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থায় এমন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ খেলার মূল স্পিরিটকে ক্ষুণ্ণ করছে বলে মনে করছেন অনেকেই, এবং এই তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন সবার দৃষ্টি।