বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ভোর ৪:৫৩ মিনিটে বিশ্ব যখন ঘুম ভাঙছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের বিজ্ঞান জগতে এক অভাবনীয় বিপ্লবের বার্তা নিয়ে এসেছে 'সংবেদন-প্রক্ষেপক' নামের এক নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল। গত এক-দুই ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা দল এবং স্থানীয় একটি টেক স্টার্টআপের যৌথ প্রচেষ্টায় উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও বিজ্ঞাপন শিল্পে দর্শক-শ্রোতার আবেগিক প্রতিক্রিয়া বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস দেওয়ার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এটি কেবল কন্টেন্টের মান নয়, এর বাণিজ্যিক সাফল্যও নির্ধারণে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই যুগান্তকারী 'সংবেদন-প্রক্ষেপক' মডেলটি কাজ করে নিউরাল নেটওয়ার্ক এবং ডিপ লার্নিংয়ের অত্যাধুনিক প্রয়োগের মাধ্যমে। এটি শুধুমাত্র কন্টেন্টের ভাষা বা দৃশ্যপট বিশ্লেষণ করে না, বরং ভিডিওতে থাকা অভিনেতাদের সূক্ষ্ম মাইক্রো-এক্সপ্রেশন, কণ্ঠস্বরের ওঠানামা, এমনকি তাদের শরীরের ভাষা থেকেও আবেগিক সংকেত শনাক্ত করতে সক্ষম। গবেষণা দলের প্রধান, ড. ফারজানা আহমেদ, এই ভোরে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, "আমরা মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে একটি নির্দিষ্ট দৃশ্য বা সংলাপের প্রতি প্রতিক্রিয়া জানায়, তার গভীরে ডুব দিয়েছি। এই এআই মডেলটি প্রতি সেকেন্ডে হাজার হাজার ডেটা পয়েন্ট বিশ্লেষণ করে দর্শক-শ্রোতার অবচেতন আবেগিক প্রতিক্রিয়াগুলোকে সংখ্যায় রূপান্তরিত করতে পারে, যা আগে কেবল অনুমাননির্ভর ছিল।"
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'সংবেদন-প্রক্ষেপক' চলচ্চিত্র নির্মাতাদের চিত্রনাট্য তৈরির সময় থেকে শুরু করে সম্পাদনা এবং ট্রেলার কাটিং পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বৈজ্ঞানিক পরামর্শ দিতে পারবে। উদাহরণস্বরূপ, কোন সংলাপটি দর্শকদের মধ্যে সর্বাধিক কৌতূহল জাগাবে, কোন দৃশ্যের ক্রম বিন্যাস সর্বোচ্চ আবেগিক টানাপোড়েন তৈরি করবে, অথবা কোন বিজ্ঞাপনী বার্তাটি পণ্য বিক্রিতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে – এসবই নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হবে এই এআই। প্রখ্যাত মিডিয়া বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমরান চৌধুরী বলেন, "এটি প্রচলিত ফোকাস গ্রুপ বা জরিপের ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে। এখন থেকে কন্টেন্ট তৈরি হবে ডেটা-ড্রাইভেন বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে, যা দর্শক-শ্রোতাদের সাথে এক গভীরতর সম্পর্ক স্থাপন করবে।"
এই মডেলটির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এতটাই শক্তিশালী যে এটি মানুষের মস্তিষ্কের 'মিরর নিউরন' কার্যক্রম এবং আবেগ প্রক্রিয়াকরণের ধরণগুলোকেও একপ্রকার অনুকরণ করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে মিডিয়া কন্টেন্টের দৃশ্য, শব্দ এবং কাহিনীর বিন্যাসের মধ্যে লুকানো ‘আবেগিক কোড’ গুলোকে উন্মোচন করা সম্ভব হচ্ছে। এই আবিষ্কার শুধু বাংলাদেশের মিডিয়া শিল্পকে বৈশ্বিক মানচিত্রে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে না, বরং বিশ্বজুড়ে মিডিয়া সায়েন্স গবেষণায় এক নতুন ধারার সূচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি শিল্পীদের সৃজনশীলতার সাথে বিজ্ঞানকে এক নতুন মেলবন্ধনে আবদ্ধ করেছে, যা ভবিষ্যতের বিনোদন জগতের পথপ্রদর্শক হবে।