সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা শুক্রবার (৩ জুলাই, ২০২৬) রাতে এক জরুরি সতর্কবার্তায় অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা অনলাইনে শিশুদের ছবি দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি শিশু যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্টের ভয়াবহ বৃদ্ধি এবং এর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন (IWF)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অনলাইনে এআই দিয়ে তৈরি শিশু যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্টের পরিমাণ উদ্বেগজনকভাবে ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই তথ্য বাংলাদেশের জন্যও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, কারণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ঝুঁকির মাত্রাও বাড়ছে। অভিভাবকদের অসাবধানতাবশত দেওয়া শিশুদের ছবিগুলো পরবর্তীতে এআই ব্যবহার করে বিকৃত করা হতে পারে, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও সহজ করে তুলেছে। অপরাধীরা এখন খুব অল্প সময়ে এবং কম খরচে অত্যাধুনিক এআই টুল ব্যবহার করে বাস্তবসম্মত যৌন নিপীড়নমূলক ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে পারে, যা শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে, শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির একজন মুখপাত্র আজ রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, "আমরা সকল অভিভাবক এবং যত্নশীলদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি যেন তারা অনলাইনে শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি শেয়ার করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকেন। প্রতিটি শেয়ার করা ছবিই অপব্যবহারের ঝুঁকিতে থাকে। এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ রোধে সামাজিক সচেতনতা এবং প্রযুক্তিগত সতর্কতাই প্রধান হাতিয়ার।"
কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকেও তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং এআই-জেনারেটেড ক্ষতিকারক কনটেন্ট শনাক্তকরণ ও অপসারণের জন্য আরও উন্নত টুল ব্যবহার করতে উৎসাহিত করছে। শিশুদের নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।