শুক্রবার ভোরের আলো ফোটার আগেই দেশজুড়ে এক নতুন শঙ্কার মেঘ ঘনিয়ে এসেছে। আজ ভোর ৪টার পরপরই কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক জরুরি নির্দেশনায় সমগ্র জাতিকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। জানা গেছে, একটি নতুন, অত্যন্ত আগ্রাসী পোকা দেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধানের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় দেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য এক গভীর সংকট তৈরি করেছে এবং সরকার রাতারাতি জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য হয়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'পোকাটির আক্রমণ এতটাই দ্রুত ও ব্যাপক যে, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অন্তত পাঁচটি বিভাগের বিস্তৃত এলাকায় এটি ছড়িয়ে পড়েছে।' গতকাল সন্ধ্যা থেকে যশোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী এবং বরিশাল অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে অস্বাভাবিক ফসলহানির খবর আসতে শুরু করে। কৃষি বিজ্ঞানীরা রাতভর গবেষণাগারে কাজ করে নিশ্চিত করেছেন যে এটি 'ক্রিপ্টোফ্যাগাস ওরিয়েন্টালিস' (Cryptophagus orientalis) নামক এক ধরনের উচ্চ অভিযোজনক্ষম পোকা, যা আগে কখনো বাংলাদেশে দেখা যায়নি। এই পোকা ধানের শীষের রস শোষণ করে গাছকে সম্পূর্ণ নিস্তেজ করে ফেলছে, যার ফলে ফলন প্রায় শূন্যে নেমে আসছে।
কৃষি মন্ত্রী ড. ফজলুল হক আজ ভোর ৪:৩০টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, "এটি আমাদের কৃষি ইতিহাসের এক কঠিনতম চ্যালেঞ্জ। আমরা ইতিমধ্যেই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করেছি এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত কীটনাশক ছিটানোর নির্দেশ দিয়েছি। প্রয়োজনে আকাশপথেও স্প্রে করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং আন্তর্জাতিক কৃষি বিজ্ঞানীদের সাহায্য চেয়েছি। খাদ্যসংকট এড়াতে আমরা সবরকম চেষ্টা করব, তবে আগামী কয়েক মাস চালের বাজারে এর প্রভাব অনস্বীকার্য।"
দেশের কৃষি অর্থনীতিবিদরা এই ঘটনাকে 'ব্যাপক ধ্বংসাত্মক' হিসেবে অভিহিত করছেন। তাদের মতে, তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এই পোকার আক্রমণ আগামী বোরো মৌসুমকেও প্রভাবিত করতে পারে, যা দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা চরম হতাশায় ভুগছেন। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই তাদের চোখেমুখে ছিল দুশ্চিন্তার ছাপ। সরকার ও বিজ্ঞানী মহলের এই দ্রুত ও সমন্বিত প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।