প্রবল বর্ষণ ও মারাত্মক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচটি জেলার আজকের (৮ জুলাই, ২০২৬) এইচএসসি, আলিম ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান — এই পাঁচ পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার শিক্ষার্থী আকস্মিক এই ঘোষণায় নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে আজ ভোররাতে (৮ জুলাই) ১টা ১৫ মিনিটে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ এই জেলাগুলোর এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা ২০২৬ও স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত মূলত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর সার্বিক অক্ষমতার পরিপ্রেক্ষিতেই নেওয়া হয়েছে।
তবে, চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন জেলাগুলো ব্যতীত দেশের অন্যান্য সকল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা যথারীতি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে দ্রুতই জানিয়ে দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তা কিছুটা লাঘব করতে পারে। চট্টগ্রাম বোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে অগ্রাধিকার, তাই এমন একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। আশা করি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুতই নতুন তারিখ ঘোষণা করা যাবে।”
এই স্থগিতাদেশ আসার পেছনে রয়েছে একটি দীর্ঘ এবং ধাপে ধাপে নেওয়া প্রক্রিয়া। গতকাল (৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে প্রথমে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি জেলার পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা আসে। এরপর আজ ভোররাতে (৮ জুলাই) ১২টার দিকে এই দুটি জেলার সঙ্গে কক্সবাজার জেলার পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়। সবশেষ, আজ ভোররাতে ১টা ১৫ মিনিটে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনস্থ সব কটি জেলার পরীক্ষা স্থগিতের চূড়ান্ত ঘোষণা আসে, যা ভয়াবহ পরিস্থিতি ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের তৎপরতাকেই নির্দেশ করে।