ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে আবারও খবরের শিরোনামে এসেছেন বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি। স্বামী পিটার হ্যাগের সঙ্গে চলমান বিবাহবিচ্ছেদের মামলার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অবিবাহিত নারীদের জন্য তিনি দিয়েছেন এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ। সেলিনার ভাষ্য, বিয়ের আগে প্রতিটি নারীর উচিত নিজের সম্পত্তি সুরক্ষিত রাখতে আইনি চুক্তি করে নেওয়া। এই পরামর্শ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে বিবাহপূর্ব চুক্তি বা প্রি-ন্যাপশিয়াল চুক্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে।
গত সপ্তাহে ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেলিনা দাবি করেন, বিবাহবিচ্ছেদের ঠিক আগে তাকে নিজের সব সম্পত্তি স্বামীর নামে হস্তান্তর করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এর ফলস্বরূপ, বর্তমানে তার নিজের নামে উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ অবশিষ্ট নেই। নিজের করুণ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি সব মেয়েকে বলব, যদি নিজেদের কোনো সম্পদ থাকে, তাহলে বিয়ের আগে একটি চুক্তি করে নিও। নিজের সম্পত্তি আলাদা করে রাখো। শেষ পর্যন্ত অনেক সম্পর্কই সম্পদের প্রশ্নে এসে দাঁড়ায়। ভালোবাসা, প্রতিশ্রুতি, জন্ম, মৃত্যু কিংবা সন্তান-সবকিছুর মাঝেও সম্পদের বিষয়টি বড় হয়ে ওঠে। আর এটাই সবচেয়ে কষ্টের।’ এই উক্তি নারীদের জন্য এক কঠিন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছে।
আজ থেকে প্রায় ১৬ বছর আগে, ২০১০ সালে অস্ট্রিয়ার ব্যবসায়ী পিটার হ্যাগকে বিয়ে করেন সেলিনা জেটলি। তাদের সংসারে উইনস্টন ও বিরাজ নামে যমজ সন্তান এবং পরে আর্থার নামে আরও এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। এছাড়া শামশের নামে আরেক যমজ সন্তান জন্মের পরপরই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। গত বছর, ১৫তম বিবাহবার্ষিকীতেই স্বামীর কাছ থেকে ‘উপহার’ হিসেবে বিবাহবিচ্ছেদের কাগজ পেয়েছিলেন বলেও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন সেলিনা। তিনি দাবি করেন, জীবনের সেই কঠিন সময়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি স্বামীর নামে হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়েছিলেন। প্রায় আট মাস আগে, গত বছরের নভেম্বরে পিটারের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য সহিংসতার অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হন এই অভিনেত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘকাল ধরে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং যৌথ অভিভাবকত্বের ব্যবস্থা থাকলেও তাকে সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
তবে, পিটারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। মাত্র দুই মাস আগে, গত মে মাসে মুম্বাইভিত্তিক আইন সংস্থা সেমওয়াল অ্যান্ড কোং জানায়, চলমান বিবাহবিচ্ছেদ ও সন্তানের হেফাজত সংক্রান্ত মামলার মধ্যে সেলিনা সাক্ষাৎকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর মন্তব্য করছেন। সেলিনার এই সাহসী বার্তা কেবল তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাই বলে না, বরং আধুনিক সমাজে বিবাহ এবং সম্পত্তির আইনি সুরক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে নারীদের সচেতন করার এক জোরালো আহ্বান হিসেবে কাজ করছে।