২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে গতকাল, মঙ্গলবার (৭ জুলাই, ২০২৬) এক নাটকীয় ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর মিশরের স্ট্রাইকার মোস্তাফা জিকো ম্যাচের রেফারিং নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের শুরু থেকেই মিশরের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং ম্যাচ পরিচালনায় তিনি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলেন না। এই অভিযোগ বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ম্যাচ শেষে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে জিকো বলেন, “রেফারি ভালো ছিলেন না, তিনি অন্যায় করেছেন। তার অন্যায় সবার চোখে পড়েছে। ম্যাচের শুরু থেকেই তিনি আমাদের টার্গেট করেছিলেন। মনে হচ্ছিল, তিনি চান না আমরা জিতি।” তিনি আরও যোগ করেন, “সমর্থকদের আনন্দ দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। এজন্য দুঃখিত। এটা আমাদের দোষ ছিল না। মনে হচ্ছিল ম্যাচটি আগেই নির্ধারিত ছিল। আমরা ২-০ গোলে এগিয়ে ছিলাম, তারপরও রেফারি বারবার আমাদের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আর্জেন্টিনাকে আরেকটি বিশ্বকাপের শুভেচ্ছা। মনে হচ্ছে সেটাই আগে থেকেই ঠিক ছিল।” জিকোর এই মন্তব্য ম্যাচের ফলাফল নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে।
ম্যাচে মোস্তাফা জিকো দুটি গোল করলেও শেষ পর্যন্ত কেবল একটি গোলই স্বীকৃতি পায়। দ্বিতীয় অর্ধে তার করা প্রথম গোলটি ভিএআর পর্যালোচনার পর আক্রমণ শুরুর আগে ফাউলের অভিযোগে বাতিল করা হয়, যা দলের মনোবল ভেঙে দেয়। এরপর সতীর্থ হাসানের পাস থেকে আরেকটি গোল করে মিশরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। কিন্তু সেই ব্যবধানও ধরে রাখতে পারেনি মিশর। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় অর্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্যভাবে তিনটি গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায়।
জিকো বলেন, “আমরা কখনোই ভাবিনি ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে। আমরা জানতাম, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও শিরোপার অন্যতম দাবিদারের বিপক্ষে খেলছি। কিন্তু তারা যদি শুধু নিজেদের পারফরম্যান্সের জোরেই জিততো, তাহলে আমাদের অনুভূতি ভিন্ন হতো।” ম্যাচের ৮০তম মিনিটে (দ্বিতীয় অর্ধে ৩৫তম মিনিটে) জিকো মাঠ ছাড়ার পরই ম্যাচের চিত্র দ্রুত বদলে যায়। তার মাঠ ছাড়ার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরে, আর যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে বিশ্বকাপ থেকে মিশরের বিদায় ঘণ্টা বাজায়।