গতকাল (৭ জুলাই, ২০২৬) আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শ্বাসরুদ্ধকর বিশ্বকাপ শেষ ষোলোর ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় পরাজয়ের পর মিশরীয় ফরওয়ার্ড মোস্তফা জিকো রেফারিদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও মাত্র ১৩ মিনিটের ঝড়ে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে আফ্রিকান এই দলটিকে। শুধু পরাজয় নয়, রেফারিং নিয়ে তার ক্ষোভ বিস্ফোরক মন্তব্য পর্যন্ত গড়িয়েছে, যা গত ২৪ ঘণ্টায় ফুটবল অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
ম্যাচটিতে একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সাক্ষী হয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা। বিশেষ করে, দ্বিতীয়ার্ধে জিকোর করা একটি গোল ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর সহায়তায় বাতিল করে দেন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের। মিশর শিবির দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, এই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিয়েছে, তাদের বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলছিল মিশর। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জিকো ব্যবধান দ্বিগুণ করে ২-০ করেন। এমনকি এর আগে লিওনেল মেসির একটি পেনাল্টিও ঠেকিয়ে দিয়েছিলো মিশরের রক্ষণ। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সেই বিতর্কিত মুহূর্ত আসে। রেফারির সিদ্ধান্ত ছিল, গোলের বিল্ডআপে মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ওপর ফাউল করেছিলেন। ভিএআর-এর পরামর্শে লেতেক্সিয়ের মনিটরে রিপ্লে দেখে গোলটি বাতিল করেন, যা মিশরের খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
গোল বাতিলের পর যেন আর্জেন্টিনা নতুন জীবন পায়। ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি এবং এনজো ফার্নান্দেজের গোলে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে লিওনেল স্কালোনির দল ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচ শেষে হতাশ জিকো রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বলেন, ‘রেফারিং ছিল জঘন্য, তারা নিরপেক্ষ ছিলেন না। এটা পরিষ্কারভাবেই বোঝা গেছে যে তিনি নিরপেক্ষ ছিলেন না। আমরা শুরু থেকেই অসাধারণ খেলছিলাম। পুরো দল নিজেদের সেরাটা দিয়েছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও এভাবে হার মেনে নেওয়া খুব কঠিন। এই বিশ্বকাপ সাজানো ছিল। এখন শুধু আল্লাহই আমাদের সাহায্য করতে পারেন।’ জিকোর এমন বিস্ফোরক মন্তব্য নিয়ে এখনো ফিফার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে মিশরের অভিযান শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে নাটকীয় জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়ার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল। ফুটবলপ্রেমীরা এখন এই বিতর্ক এবং ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোর দিকে নজর রাখছেন।