২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার কাছে শ্বাসরুদ্ধকর ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিলেও, মিশরীয় ফুটবল দল তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত নাটকীয় এই ম্যাচে এক পর্যায়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও আফ্রিকার প্রতিনিধিরা শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি। তবে এমন হতাশাজনক বিদায়ের পরও জাতীয় দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল-সিসি, যা ক্রীড়া মহলে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
প্রেসিডেন্ট সিসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মিশরীয় দলকে "চ্যাম্পিয়ন" হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি লেখেন, ‘জাতীয় ফুটবল দলের চ্যাম্পিয়নদের ধন্যবাদ। তোমরা সম্মানজনক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছ এবং মিশরের ফুটবল ইতিহাসে নজিরবিহীন একটি অর্জন এনে দিয়েছ। আমরা তোমাদের নিয়ে গর্বিত। ইনশাআল্লাহ, সামনে আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।’ এই বার্তা কেবল দলের মনোবলই বাড়ায়নি, বরং দেশের আপামর জনতার মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
তবে মাঠের বিতর্কের রেশ ম্যাচের পরও কাটেনি। প্রেসিডেন্ট সিসি তাঁর বার্তায় রেফারিং বিতর্ক নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও, ম্যাচ শেষে মিশরীয় খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের একাধিক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। বিশেষ করে, স্ট্রাইকার মোস্তাফা জিকোর করা একটি গোল ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল হওয়ায় মিশরীয় শিবিরে ক্ষোভ দেখা যায়। ভিডিও সহকারী রেফারি আক্রমণের শুরুতে আর্জেন্টিনার পক্ষে ফাউলের ইঙ্গিত দিলে মাঠের রেফারি গোলটি বাতিল করেন। যদিও কিছুক্ষণ পর জিকো আবারও গোল করে মিশরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিয়েছিলেন, সেই বাতিল হওয়া গোলটিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারত বলে মনে করেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
এটি ছিল বিশ্বকাপে মিশরের তৃতীয় অংশগ্রহণ। আর এবারের আসরটি তাদের ফুটবল ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ পাওয়া এবং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোতে খেলার গৌরব অর্জন – এই সবকিছুই মিশরীয় ফুটবলের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তাই বিদায়ের হতাশার মধ্যেও ২০২৬ বিশ্বকাপকে দেশটির ফুটবল ইতিহাসের সেরা অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।