বিরল প্রজাতির কোরাল রেড কুকরি বা কমলাবতী সাপের রহস্যময় উপস্থিতি এবং দ্রুত বৃদ্ধি বাংলাদেশের পরিবেশবিদ ও বন্যপ্রাণী গবেষকদের মধ্যে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। আজ বিকেলে (শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬) প্রকাশিত এক নতুন তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এই বিরল প্রজাতির ৬৬টি সাপের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে, যা পরিবেশ বিজ্ঞানীদের রীতিমতো অবাক করে দিয়েছে। ১৯৩৬ সালে ভারতের উত্তরপ্রদেশে প্রথম আবিষ্কারের পর বিশ্বজুড়ে এই সাপের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত সীমিত, মূলত ভারতের হিমালয় অঞ্চল এবং নেপালের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তৃতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশেই এটি প্রথম তালিকাভুক্ত হয় মাত্র ২০২১ সালে। সেই সময় থেকে এ পর্যন্ত এত বিপুল সংখ্যক সাপের সন্ধান পাওয়া truly অপ্রত্যাশিত।
এই আকস্মিক বৃদ্ধি বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অনুকূল পরিবেশের বিস্তার, কিংবা পূর্বে অনাবিষ্কৃত আবাসস্থল আবিষ্কারের ফলেই এই সাপের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। ঢাকার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সোসাইটির প্রধান গবেষক ড. ফারহান আহমেদ আজকের খবরে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, "পাঁচ বছর আগেও আমরা ভাবিনি যে বাংলাদেশে কোরাল রেড কুকরির এত বড় একটি প্রজনন ক্ষেত্র থাকতে পারে। এই তথ্য প্রমাণ করে যে আমাদের জীববৈচিত্র্যের গভীরে আরও অনেক কিছু লুকানো আছে।" এই সাপের উপস্থিতি দেশের পরিবেশগত স্বাস্থ্য এবং জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধির একটি ইতিবাচক সূচক হতে পারে, যা নতুন গবেষণার দ্বার উন্মোচন করবে।
কোরাল রেড কুকরি সাপ সাধারণত নিরীহ এবং বিষহীন হয়ে থাকে। এর উজ্জ্বল কমলা-লাল রং একে সহজেই চিহ্নিত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাপের সংখ্যা বৃদ্ধি দেশের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সাথে, এর সংরক্ষণ এবং আবাসস্থল সুরক্ষার বিষয়টিও জরুরি হয়ে পড়েছে। বন্যপ্রাণী বিভাগ ইতিমধ্যেই এই প্রজাতির সাপগুলোর গতিবিধি এবং প্রজনন পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তারা জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির ওপরও জোর দিচ্ছেন, যাতে কেউ এই সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে বন বিভাগকে অবহিত করে।
এই বিরল সাপের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নীতি এবং জীববৈচিত্র্য গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। পরিবেশবিদরা আশা করছেন, এই আবিষ্কার দেশের অন্যান্য বিরল প্রজাতির প্রাণী শনাক্তকরণ এবং সংরক্ষণে নতুন অনুপ্রেরণা যোগাবে। একসময় লুপ্তপ্রায় হিসেবে বিবেচিত এই সাপের ফিরে আসা যেন প্রকৃতির এক নিজস্ব বার্তা, যা আমাদের পরিবেশ সুরক্ষায় আরও মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দিচ্ছে।