গত বছরের (২০২৫ সালের) এক উদ্বেগজনক অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লেও দেশের অবস্থান এখনও ঘানা ও উগান্ডার মতো আফ্রিকান দেশগুলির পেছনে। এই পরিসংখ্যান দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, কেবল বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়, বরং অন্যান্য দেশের তুলনায় তুলনামূলক অবস্থানও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
চলতি বছরের (২০২৬) ফেব্রুয়ারিতে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করার পর তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বিশেষ জোর দেয়। সরকারের নীতি-নির্ধারকরা আশা করছেন যে, সুনির্দিষ্ট কৌশল এবং অনুকূল নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে এই চিত্র পরিবর্তন করা সম্ভব হবে। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কথা বলে আসছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ঘানা ও উগান্ডার মতো দেশগুলি, যাদের অর্থনীতি বাংলাদেশের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে ছোট, তাদের পেছনে থাকাটা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থনীতিবিদ মন্তব্য করেছেন, "এটি স্পষ্ট যে আমাদের আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে। শুধু পরিমাণগত বৃদ্ধি নয়, গুণগত এবং তুলনামূলক বৃদ্ধিও জরুরি। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শুধু নিরাপদ পরিবেশ নয়, বরং সহজ ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতাও খোঁজেন।"
নতুন সরকারের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য তাদের দ্রুত বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস, কর সুবিধা এবং আইনি সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলোই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ কত দ্রুত ঘানা-উগান্ডার মতো দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে।