মধ্যরাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে আজ ভোররাতে অনলাইন দুনিয়ায় বিস্ফোরক এক খবর ছড়িয়ে পড়েছে— বাংলাদেশের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা আহমেদ ফাহিমের বহুপ্রতীক্ষিত, উচ্চাভিলাষী বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ‘মায়ালোক’-এর প্রথম গোপন টিজার ও একাধিক কনসেপ্ট আর্ট ফাঁস হয়েছে। ঠিক রাত ৩টা ৪৬ মিনিটের দিকে রেডিটের একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ফোরামে প্রথম এই ফাঁস হওয়া কনটেন্ট আপলোড করা হয়, যা দ্রুতই এক্স (সাবেক টুইটার) এবং বাংলাদেশের ফেসবুক গ্রুপগুলোতে wildfire-এর মতো ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘মায়ালোক’ এবং ‘আহমেদ ফাহিম’ ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে উঠে এসেছে, যা বাংলাদেশী চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে অভূতপূর্ব উন্মাদনা তৈরি করেছে।
ফাঁস হওয়া ১৫ সেকেন্ডের টিজারে দেখা যাচ্ছে অত্যাধুনিক গ্রাফিক্স ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের সমন্বয়ে নির্মিত এক রহস্যময়, ভবিষ্যৎনির্ভর জগৎ। সেখানে বিমূর্ত আলো, উড়ন্ত শহর এবং একটি রহস্যময় নারীর অস্পষ্ট অবয়ব দেখা গেছে, যার কণ্ঠস্বর গভীর আর আকর্ষণীয়। কনসেপ্ট আর্টগুলোতেও ফুটে উঠেছে এক অভূতপূর্ব প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং শিল্পসম্মত দিকনির্দেশনা, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ নতুন। আহমেদ ফাহিম, যিনি তার গভীর মনস্তাত্ত্বিক গল্পের জন্য পরিচিত, এবারই প্রথম এমন বিশাল বাজেটের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর পথে হেঁটেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই লিকের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, 'মায়ালোক' শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্র নয়, এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে।
চলচ্চিত্র সমালোচক এবং ইন্ডাস্ট্রির বিশেষজ্ঞরা এই লিক নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। যদিও লিক হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত, তবে অনেকেই মনে করছেন এটি ছবির প্রতি দারুণ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র সমালোচক ড. রাফসান জায়েদ আজ ভোরে তার X হ্যান্ডেলে মন্তব্য করেছেন, “ফাহিমের এই প্রজেক্টটি যদি ফাঁস হওয়া দৃশ্যপটের মতোই মানসম্মত হয়, তবে এটি কেবল বাংলাদেশের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার চলচ্চিত্র মানচিত্রেও নতুন ইতিহাস গড়বে। এটি আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একটি সাহসী প্রদর্শনী।” একই সাথে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও এই আকস্মিক লিক নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে, যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বিশ্ব মঞ্চে নিয়ে আসার এক নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
যদিও ছবিটি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, ধারণা করা হচ্ছে ‘মায়ালোক’ একটি বিশাল আন্তর্জাতিক সহ-প্রযোজনা। এর নির্মাণশৈলী এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট হলিউডের আধুনিক মানদণ্ডকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম বলে ফাঁস হওয়া চিত্রগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই লিকের পেছনে কে বা কারা জড়িত, তা এখনও রহস্যে ঘেরা। ফাহিমের প্রোডাকশন হাউস 'আলোকচিত্র স্টুডিওস' থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, তবে তারা অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এই ফাঁস হওয়া ঘটনাটি ‘মায়ালোক’কে ঘিরে প্রত্যাশার পারদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।