টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানি এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা জনজীবনে ভয়াবহ দুর্যোগের ঘনঘটা নিয়ে এসেছে। আজ (বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬) সকাল ৯টায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীটি ১৫.৭৫ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যেই তলিয়ে গেছে, যার ফলস্বরূপ বসতঘর, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও কৃষিজমিতে পানি ঢুকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান পৌর এলাকার আর্মি পাড়া, মেম্বার পাড়া, ইসলামপুর শেরেবাংলা, ব্রীগেড এলাকা, বালাঘাটার আম বাগান, ক্যাচিংঘাটা, হাফেজঘোনা এবং নদী তীরবর্তী অন্যান্য নিচু অঞ্চলগুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে। বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। গ্রামীণ সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এর পাশাপাশি, অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক করার পাশাপাশি তাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য নিরন্তর আহ্বান জানাচ্ছে।
ইতিমধ্যেই ১৪০টিরও বেশি পরিবার তাদের বসতঘর ছেড়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে এবং সময়ের সাথে সাথে এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, জেলাজুড়ে অন্তত কয়েক হাজার মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি। বান্দরবান সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিল্টন দস্তিদার আজ বেলা ১১টা পর্যন্ত দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানান, উপজেলায় খোলা ৪৫টি আশ্রয়ণ কেন্দ্রে ১৯০টি পরিবারের প্রায় ৭০০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গতদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলায় মোট ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যার মধ্যে সদর উপজেলায় রয়েছে ৪৫টি।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং অবিরাম বৃষ্টির কারণে সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মন্ডল জানিয়েছেন, গতকাল (মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে আজ (বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬) সকাল ৯টা পর্যন্ত বান্দরবানে রেকর্ড পরিমাণ ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, আগামী কয়েক দিনও এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা চলমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।