ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উত্তেজনাময় এক রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে (শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেন্দ্র) উন্মাদনার নতুন এক দৃশ্য দেখা গেল। গত সপ্তাহের যেকোনো এক রাতে, আর্জেন্টিনা একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয়লাভ করার পর উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা উল্লাসে মেতে ওঠেন। সেই আনন্দ উদযাপনের এক ফাঁকে এক আর্জেন্টিনা সমর্থক তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল দলের একজন ভক্তের হাতে প্রতীকীভাবে একটি 'সেভেনআপ' কোমল পানীয় ধরিয়ে দেন। এই মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে কৌতুক ও আলোচনার জন্ম দেয়।
এই ‘সেভেনআপ’ বিতরণের পেছনে রয়েছে ফুটবলের এক স্মরণীয় এবং ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য বেদনাদায়ক ইতিহাস। ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিল জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল, যা ফুটবল ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। সেই থেকেই প্রতিপক্ষ সমর্থকরা, বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ভক্তরা, ব্রাজিলকে খোঁচা দিতে এই 'সেভেনআপ' প্রসঙ্গটি ব্যবহার করে আসছেন। টিএসসির এই ঘটনা আবারও সেই পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নতুন করে উসকে দিল, তবে তা ছিল মূলত খেলার ছলে, বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে।
এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, "আর্জেন্টিনার জয়ের পর টিএসসিতে উৎসব চলছিল। হঠাৎ দেখি একজন আর্জেন্টিনা সমর্থক মজা করে ব্রাজিল সমর্থকের হাতে সেভেনআপ ধরিয়ে দিলেন। সবাই হেসে উঠল। এটাই তো ফুটবলের সৌন্দর্য—হাসি-ঠাট্টা আর বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা।" অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্রাজিল সমর্থক কিছুটা কুণ্ঠিত হয়ে জানান, "আমরা ৭-১ এর কথা ভুলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আর্জেন্টিনা সমর্থকরা সেটা ভুলতে দিচ্ছে না! তবে এটা খেলার অংশ, আমরাও সুযোগ পেলে পাল্টা জবাব দেব।"
এই ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে ফুটবল উন্মাদনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মধ্যে চিরাচরিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল মাঠের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়, তা ছড়িয়ে পড়ে সমর্থকদের মধ্যেও, যা প্রায়শই এমন হাস্যরসাত্মক ও প্রতীকী ঘটনার জন্ম দেয়। টিএসসিতে সেভেনআপ বিতরণের ঘটনাটি কেবল একটি ম্যাচের জয়-পরাজয়ের চেয়েও বেশি কিছু, এটি ফুটবলকে ঘিরে বাঙালির আবেগ, রসবোধ এবং অবিরাম বিতর্কের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।