গতকাল, ৭ই জুলাই, ২০২৬ তারিখে শেষ হওয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি ফুটবল প্রেমীদের মাঝে আজও আলোচনার ঝড় তুলেছে। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও লিওনেল মেসির দল শেষ মুহূর্তে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রবেশ করে। তবে, এই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্পকে ছাপিয়ে আজ, ৮ই জুলাই, ২০২৬, সকাল ১১:৩১ পর্যন্তও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ম্যাচটির রেফারিং এবং ভিএআর (VAR)-এর বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তগুলো ফুটবল বিশ্বকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে, যেখানে একদিকে চলছে সমর্থনের যুক্তি, অন্যদিকে তীব্র সমালোচনা।
বিশেষত, মিশরের বাতিল হওয়া একটি গোল এবং পরবর্তীতে একটি পেনাল্টির আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া নিয়ে বিতর্ক চরমে পৌঁছেছে। কিছু সাবেক খেলোয়াড় ও অভিজ্ঞ বিশ্লেষকের মতে, ভিএআর-এর সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত বিতর্কিত হলেও সেগুলোকে ইচ্ছাকৃত পক্ষপাতের প্রমাণ বলা যায় না। তাদের যুক্তি হলো, ভিএআর-এর ব্যবহার পদ্ধতি (প্রোটোকল) নিয়েই আসল প্রশ্ন, যা প্রায়শই দর্শকদের কাছে স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, বেশ কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিশ্লেষক সরাসরি অভিযোগ করছেন যে, ফিফা আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই অভিযোগ ব্যাপক আকার ধারণ করলেও, এখন পর্যন্ত এর পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
এই বিতর্কে বিভিন্ন ফুটবল ব্যক্তিত্ব তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। সাবেক ফিফা রেফারি মার্ক ক্লেটেনবার্গ ভিএআর-এর 'এটাকিং পজেশন ফেজ (এপিপি)' কতদূর পর্যন্ত ফিরে দেখা যাবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, মিশরের গোলের আগে যে ফাউলটি ধরা হয়েছিল, সেটি আক্রমণাত্মক মুভেরই অংশ ছিল। তাই আইন অনুযায়ী ভিএআর-এর হস্তক্ষেপ সম্ভব, যদিও দর্শকদের কাছে তা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। ইএসপিএন-এর রেফারিং বিশ্লেষক ডেল জনসনের ব্যাখ্যাও ক্লেটেনবার্গের মতের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি বলেন, ভিএআর পূর্ববর্তী ফাউলটি চিহ্নিত করে এবং যেহেতু ওই ফাউল থেকে একই আক্রমণ চলছিল যা পরে গোলে পরিণত হয়, তাই ভিএআর গোলটি বাতিল করতে পারে। তবে এমন সিদ্ধান্ত খুবই বিরল, আর ঠিক এ কারণেই বিতর্কের জন্ম।
তবে, নিউইয়র্ক পোস্টের বিশ্লেষণ ছিল আরও কড়া। তাদের মতে, মিশরের বাতিল হওয়া গোলের আগে প্রায় ২১ সেকেন্ড আগে এবং প্রায় ১০০ গজ দূরে ফাউলটি ঘটেছিল। পরে মিশরের পেনাল্টির আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়। এসব সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতাই ম্যাচটিকে ভিএআর যুগের অন্যতম বিতর্কিত ম্যাচে পরিণত করেছে। ফক্স স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকার রব গ্রিন তো ম্যাচ চলাকালীনই ভিএআর-এর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেছিলেন, 'মাঠের প্রায় ১০০ গজ দূরে একজন খেলোয়াড় আরেকজনের পায়ের আঙুলে পা দিয়েছে—এ ধরনের ঘটনা বিচার করার জন্য ভিএআর আনা হয়নি। এখন ভিএআর তার ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যা খেলার স্বাভাবিক প্রবাহকে নষ্ট করছে।'
এই ঘটনা ফুটবল রেফারিংয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তার প্রয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে আরও গভীর প্রশ্ন তৈরি করেছে। আজ, ৮ই জুলাই, ২০২৬ তারিখেও এই ম্যাচ নিয়ে আলোচনা থামেনি, যা প্রমাণ করে যে রেফারিংয়ের সিদ্ধান্তগুলো কতটা প্রভাব ফেলে একটি ম্যাচের ফলাফলের ওপর এবং একই সাথে বিশ্বব্যাপী ফুটবল ভক্তদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।