ফুটবল বিশ্বে ফের পাতানো খেলার অভিযোগের ঝড় উঠেছে। গতকাল, ৭ জুলাই, ২০২৬ তারিখে শেষ হওয়া আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচে বিতর্কিত এক মন্তব্যের জেরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মিশরীয় তারকা ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো ম্যাচ শেষে সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, পুরো ম্যাচটিই ছিল 'পাতানো'। তার এই বিস্ফোরক অভিযোগের তীর ফিফা এবং ম্যাচের রেফারির দিকে। এক প্রতিক্রিয়ায় জিকো ব্যঙ্গ করে বলেন, "ম্যাচটা পাতানো ছিল, আর্জেন্টিনাকে আরেকটা বিশ্বকাপ জয়ের অভিনন্দন।"
জিকোর এমন মন্তব্যে ফুটবল মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তিনি স্পষ্টতই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ম্যাচ চলাকালীন সময়ে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে গিয়েছিল, যা মিশরের খেলোয়াড়দের জন্য অন্যায় ছিল। এই অভিযোগ ফিফার স্বচ্ছতা এবং খেলার নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই ঘটনা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। ফুটবলপ্রেমীরা জিকোর মন্তব্যের পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত দিচ্ছেন।
ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, মোস্তাফা জিকোর এই অভিযোগ গুরুতর এবং এর একটি বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে যখন আর্জেন্টিনা ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল এবং তাদের ঘিরে এমন পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে, তখন বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। যদি এই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে এটি কেবল এই একটি ম্যাচের ফলাফলকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে না, বরং বিশ্ব ফুটবলে ফিফার ভাবমূর্তির ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই ঘটনা স্মৃতির পাতায় ফিরে নিয়ে এসেছে অতীতের বেশ কিছু ম্যাচ ফিক্সিং বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। তবে জিকোর সরাসরি ফিফা ও রেফারির বিরুদ্ধে আঙুল তোলা নিঃসন্দেহে একটি বিরল এবং সাহসী পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়, ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং কীভাবে তারা নিজেদের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করে। বিশ্বজুড়ে ফুটবল অনুরাগীরা এই ঘটনার শেষ পরিণতি জানতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।