গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের শ্বাসরুদ্ধকর শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে জয় ছিনিয়ে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। তবে ম্যাচ শেষে জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে আলোচনায় এসেছে রেফারিং বিতর্ক, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মিশরীয় ফুটবল শিবির।
মিশরের স্ট্রাইকার মোস্তফা জিকো ৫৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন, কিন্তু ভিএআর যাচাইয়ের পর সেটি বাতিল হয়ে যায়। ম্যাচ শেষে তিনি ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ারের বিরুদ্ধে তীব্র পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। ক্ষোভ উগরে দিয়ে জিকো বলেন, 'আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই সর্বোত্তম অভিভাবক। তিনি পুরো একটি দেশের পরিশ্রম নষ্ট করে দিয়েছেন।' এরপর আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করে তিনি দাবি করেন, 'এই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার জন্যই নির্ধারিত!'
মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হোসেনও রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, মিশরই জয়ের যোগ্য ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, 'ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা রেফারির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল, কারণ তিনি ফরাসি। ম্যাচের আগে একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল এবং এর ফল আমাদের ভোগ করতে হয়েছে। ম্যাচের আগে ও ম্যাচ চলাকালীন দুই সময়েই ফলাফল প্রভাবিত হয়েছে।' কোচ হাসানের দাবি, মিশর একটি স্পষ্ট পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যা ভিএআর-এও পর্যালোচনা করা হয়নি।
কোচ হোসাম হাসান আরও বলেন, তাদের দ্বিতীয় গোলটিও অকারণে বাতিল করা হয়েছে, 'জীবন কখনো কখনো বড় নির্মম।' তিনি আক্ষেপ করে জানান, 'কোনো সম্মান বা ফেয়ার প্লে ছিল না। আমরা চ্যাম্পিয়নদের চেয়ে ভালো খেলেছি এবং সব দিক থেকেই তাদের ছাপিয়ে গেছি। তবুও মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছি।' সবশেষে রেফারিং নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ করে হোসাম হাসান বলেন, 'পরিণতি যাই হোক, আমি আমার মত বলববো। এটি স্পষ্টভাবেই পাতানো ম্যাচ ছিল, সবাই তা দেখেছে।' তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, 'যদি আর্জেন্টিনাকেই জেতাতে চাওয়া হয়, তাহলে আমাদের এখানে খেলতে ডাকা হলো কেন?' এই বিতর্ক এখন ফুটবল মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।